ল্যাম্ব রোস্ট

Update: December 24, 2012 20:06 IST

কিছু জিনিস থাকে যেগুলো খাবার পরেও জিভে লেগে থাকে। আবার কিছু খাবার থাকে যেগুলো খাওয়ার পর মনে হয়, আহা কী খেলাম। ল্যাম্ব রোস্ট খেলে দ্বিতীয় কথাটাকে আপন মনে হবে। আর এমন একটা ডিশ যদি ঘরে নিজে হাতে রান্না করে খাওয়ানো যায় তাহলে সস্তায় জনপ্রিয় হওয়ার আর কোনও বিকল্প থাকে না। তাই এই প্রতিবেদনটা ভাল করে পড়ে নিন। জিভকেও মজা দিতে পারবেন, আবার সস্তার জনপ্রিয়তাও হঠাত্‍ করে পেয়ে যাবেন।


কী কী লাগবে

ম্যারিনেড করার জন্য

অরেঞ্জ জুস- আধ কাপ
হোয়াইট ওয়াইন- ১ কাপ
রসুন- ৩ কোয়া
টাটকা থাইম পাতা- ২চা চামচ অথবা শুকনো থাইম ১চা চামচ
রোজমেরি পাতা- ২টেবিল চামচ বা শুকনো রোজমেরি ১টেবিল চামচ
গোলমরিচ গুঁড়ো- ১/৪ চা চামচ
অলিভ অয়েল- ২টেবিল চামচ

ম্যারিনেড করার সব উপকরণ একসঙ্গে মিহি করে বেটে নিন।

ল্যাম্ব রোস্টের জন্য-

ল্যাম্বের ঠ্যাং- ৩ কেজি (হাড় ছাড়া শুধু মাংস)
নুন

কীভাবে বানাবেন

ল্যাম্ব সুতো দিয়ে বেঁধে ভাল করে ম্যারিনেড করে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে নিন। প্যাকেটার মুখ ভাল করে আটকে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। রোস্ট করার এক ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে বের করে রাখুন। ওভেন ২২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিট করুন। ওভেনে দুটো র‌্যাক তৈরি করুন। মাঝারি মাপের র‌্যাকে ল্যাম্ব রাখতে হবে ও নিচু র‌্যাকে খালি রোস্টিং ট্রে রাখতে হবে। প্রি-হিট করার সময় রোস্টিং প্যান ওভেনে রেখেই হিট করুন।

এবার প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ল্যাম্ব বার করে নিন। ল্যাম্বের দু`পিঠেই ভাল করে নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো মাখিয়ে নিন। রোস্ট করার সময় ল্যাম্বের বেশি মাংসল অংশ উপরের দিকে রাখবেন যাতে চর্বি ভাল করে গলে যায়। ল্যাম্ব মাঝারি র‌্যাকের ওপর মাঝ বরাবর বসিয়ে দিন যাতে রোস্টিং ট্রে ঠিক ল্যাম্বের নিচেই থাকে। এইভাবে ২০ মিনিট রোস্ট করার পর ওভেনের তাপমাত্রা ১৫০ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে এনে আরও ১০ থেকে ১২ মিনিট রোস্ট করে নিন। ওভেন থেকে বার করে নিয়ে রোস্টা ঠান্ডা হতে দিন। নিচের র‌্যাক থেকে রোস্টিং প্যান ট্রে বার করে ট্রেতে চুঁইয়ে পড়া ল্যাম্ব ম্যারিনেড দিয়ে গ্রেভি বানিয়ে নিন বা ল্যাম্বের সঙ্গে এমনিও পরিবেশন করতে পারেন।
হয়ে গেলে পুদিনার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।