মৃত্যুঞ্জয়ী যাঁরা...

Last Updated: Saturday, August 17, 2013 - 11:24

ক্যানসার। নামটা শুনলে মনে ভিড় করে আতঙ্ক, উদ্বেগ, একরাশ দুশ্চিন্তা। আর ছুঁলেই মৃত্যু। তবে এই ধারনা ইদানিং অনেকটা পাল্টেছে। আমরা এখন জানি, ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। ক্যানসার মানে আসলে যুদ্ধ। যে যুদ্ধে জেতাও যায়।   ক্যানসারের ধাক্কা সামলে এখন সুস্থতার পথে বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। তবে রোগের খবর শোনার পর বুকটা কি একটুও কেঁপে ওঠেনি?
 
নিশ্চই উঠেছিল। কিন্তু হারাতে পারেনি তাঁর জীবনীশক্তিকে। গত বছর জরায়ুর ক্যানসার ধরা পড়ার পরই চিকিত্‍সা শুরু হয়ে যায়। ৪২ বছরের এই অভিনেত্রী এখন বলিউডে কামব্যাকের অপেক্ষায়।  
তাঁর তৈরি বরফি আমাদের সবার পছন্দ। কিন্তু ক্যানসারের সামনে যদি হার মেনে নিতেন অনুরাগ বসু, তা হলে কি আমরা পেতাম বরফি? কিংবা `লাইফ ইন এ মেট্রো`-র মতো সিনেমা? ২০০৪-এ ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ার সময় চিকিত্‍সকরা জানিয়েছিলেন, বাঁচার আশা মাত্র ৫০%। কিন্তু অনুরাগের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা যে ছিল ১০০%। হার মেনে তাই ফিরে গেল কর্কট রোগ।  
 যুবরাজ সিং। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালাতে গিয়ে বহুদিন ক্রিকেটের বাইশ গজের বাইরে থাকতে হয়েছে। হতাশাও এসেছে। কিন্তু  কাবু করতে পারেনি।
জীবনযুদ্ধে জয়ী যুবি এখন ফের হাজির টিম ইন্ডিয়ায়। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের সেইসব দিন নিয়ে লিখে ফেলেছেন একটি বইও। নাম- দ্য টেস্ট অফ মাই লাইফ।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার জিওফ্রে বওকটের ক্যানসার ধরা পড়েছিল ২০০২-এ। গলায় চার-চারটি টিউমার। ৩৫টি রেডিওথেরাপি সেশনের পর তিনি হার মানান এই মারণরোগকে। ফিরেও আসেন ধারাভাষ্যকারের চেয়ারে।
লড়াইয়ের আরেক নাম লান্স আর্মস্ট্রং। দোসরা অক্টোবর, ১৯৯৬-এ ক্যানসার ধরা পড়েছিল অ্যাডভান্স স্টেজে। বাঁচার আশা ছিল ৪০%। কিন্তু রেকর্ডবার ত্যুর দ্য ফ্রঁস্ জয়ী এই সাইক্লিস্ট লড়াইয়ের রাস্তা থেকে পিছিয়ে আসেননি। এক বছরের মধ্যে সেরে ওঠেন পুরোপুরি।
স্তনের ক্যানসার ধরা পড়ার পর প্রথমটায় খানিকটা ভেঙেই পড়েছিলেন টেনিস কিংবদন্তি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। তবে তা কাটিয়ে উঠে লড়াইয়ের পথ বেছে নেন তিনি।  
বার্সেলোনার ফুটবলার এরিক আবিদালের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছিল ক্লাবসূত্রেই। লিভার প্রতিস্থাপনের পর এখন তিনি স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন ফুটবল মাঠে।
লিজা রে। মডেল, অভিনেত্রী। ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধটা চালিয়েছেন নিঃশব্দে, আড়ালে থেকেই। যুদ্ধজয়ের পর মুখ খুললেন নিজের লড়াই নিয়ে। শেখালেন পজিটিভ অ্যাটিটিউড কী ভাবে বদলে দিতে পারে জীবন। কীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায় মৃত্যুকেও।
  
বলিউড তাঁকে চেনে চিগি-উইগি গার্ল হিসেবে। তিনি কাইল মিনগ। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে "ব্লু" সিনেমায় আমরা পেয়েছিলাম লাস্যময়ী এই অস্ট্রেলিয়ান পপ গায়িকাকে। দুহাজার পাঁচে কনসার্ট ট্যুর চলার মাঝেই পেয়েছিলেন ক্যানসারের খবরটা। ভেঙে পড়েননি। হেরেও যাননি। চিকিত্‍সার পর আবার মঞ্চ মেতেছে তাঁর নাচে গানে।   
বিখ্যাত অভিনেত্রী মুমতাজের জীবনেও থাবা বসিয়েছিল এই মারণরোগ। কিন্তু টলাতে পারেনি তাঁর বেঁচে থাকার ইচ্ছেকে। চুয়ান্ন বছর বয়সে অবশেষে আসে রোগমুক্তির খবর।   
কাইটস সিনেমায় হৃতিক রোশনের উল্টোদিকে  দেখেছিলাম বারবারা মোরিকে। তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর হয়তো অনেকেই জানেন না। দীর্ঘদিনের লড়াই আর হার না মানার জেদ-- দুয়ের ওপর ভর করেই ক্যানসারকে জীবন থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন এই অভিনেত্রীও।
জনপ্রিয় টেলি-সিরিয়াল ফ্রেন্ডস-এর অ্যামি গ্রিন সবার পরিচিত। চরিত্রটি যিনি জীবন্ত করে তুলেছিলেন সেই ক্রিস্টিনা অ্যাপলগেটের জীবনে কিন্তু কম ঝড়ঝাপটা আসেনি। দুহাজার আটে স্তনের ক্যানসার ধরা পড়ার পর চিকিত্‍সায় বাদ দিতে হয়েছে দুটি স্তনই। কিন্তু সমূলে উত্‍খাত করেছেন ক্যানসারকে।
উইমেন্স ক্যান্সার ইনিসিইয়েটিভ- সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবিকা ভোজওয়ানি নিজেও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিত্‍সার পর এখন সুস্থ। তবে শুধু নিজের যুদ্ধ জয় করেই থেমে যাননি। ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্তদের জন্য অর্থসংগ্রহ, এ সবের মধ্যে দিয়ে আজও ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।  
 
এ তো গেল চেনাজানা কিছু মুখ। কিন্তু আমাদের চারপাশেও নাম না জানা, মুখ না চেনা এমন অনেকে মানুষ আছেন, যাঁদের লড়াই হার মানিয়েছে এই মারণরোগকে। যাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, ভয়ে সিঁটিয়ে নয়, ক্যানসারকে হারাতে হয় বেঁচে থাকার জেদকে সঙ্গী করে। ব্যুরো



First Published: Saturday, August 17, 2013 - 11:24


comments powered by Disqus