কাসভের ফাঁসির পর ভারত-পাক সম্পর্ক ঘিরে নতুন সংশয়

কাসভের ফাঁসির পর ভারত-পাক সম্পর্ক ঘিরে নতুন সংশয়

কাসভের ফাঁসির পর ভারত-পাক সম্পর্ক ঘিরে নতুন সংশয়মুম্বই সন্ত্রাসের পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনার দরজা একটু একটু করে খুলতে শুরু করেছিল। গত ৪ বছরে ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে আশ্বাস শোনা গিয়েছে দুতরফেই। আর এরই মধ্যে গতকাল ফাঁসি হল আজমল কসাভের। ভারতের এই পদক্ষেপকে কীভাবে নেবে পাকিস্তান? এখন প্রশ্ন এটাই।

দুহাজার আটের ২৬ নভেম্বর। সন্ত্রাসবাদী হামলায় দীর্ণ হয়েছিল বাণিজ্যনগরী মুম্বই। আর এই হামলার পরই পাকিস্তানের সঙ্গে যাবতীয় আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয় ভারত। স্পষ্টতই তলানিতে ঠেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। অবশ্য, ২৬/১১ ক্ষত নিয়েই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ফের আলোচনার টেবিলে সাক্ষাত হয় ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে। কলম্বোয় সার্ক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন দু`দেশের বিদেশসচিবরা। এরপর জি-এইট সম্মেলনে ফের মুখোমুখি। এবার পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জরদারির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিশরের শর্ম-আল-শেখেও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু, তখনও এতটুকুও গলেনি সম্পর্কের বরফ।

দুহাজার দশেও একাধিকবার আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হয় দুদেশ। তত্কালীন পাক বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানে গিয়ে বৈঠক করেন তত্কালীন বিদেশমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা। কিন্তু, মুম্বই সন্ত্রাসকে পাশ কাটিয়ে কাশ্মীর ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনার সুরটা কেটে দেয় ইসলামাবাদ।

দুহাজার এগারোয় অবশ্য সম্পর্কের সুতোটাকে মজবুত করতে আগ্রহ দেখায় পাকিস্তানই। মোহালিতে ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে আসেন তত্কালীন পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি। ওই বছরেই বাণিজ্যক্ষেত্রে ভারতকে সবথেকে পছন্দের রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে ইসলামাবাদ।

২০১২ তে আলোচনার ক্ষেত্রটা আরও প্রসারিত হয়। ভিসা প্রক্রিয়া সরলীকরণের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিকস্তরে স্বাক্ষরিত হয় চুক্তি।

সবমিলিয়ে মুম্বই সন্ত্রাসের পর সবমিলিয়ে ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে দুদেশ। কিন্তু, আলোচনার টেবিলে কখনই প্রথমসারিতে উঠে আসেনি ছাব্বিশ এগারো। কয়েকটি ক্ষেত্রে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ ছাড়া এতটুকুও এগোনো সম্ভব হয়নি। ২৬/১১ নিয়ে ভারতের দেওয়া ডোজিয়েরকে এখনও পর্যন্ত তেমনভাবে গুরুত্ব দেয়নি পাকিস্তান। মুম্বই সন্ত্রাসের চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্যত নিস্পৃহ ইসলামাবাদ। আর এরই মধ্যে ফাঁসি হল আজমল কসাভের। নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে কীভাবে নেবে পাকিস্তান? এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি ইসলাবাদের তরফে। সেক্ষেত্রে কি কার্যত নীরব থেকে আলোচনার পথ যাতে দুর্গম না হয়ে ওঠে, সেই চেষ্টাটাই চালিয়ে যাবে পাকিস্তান? নাকি, ২৬/১১ তদন্তের গতি আরও শ্লথ করে নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরির পথ বেছে নেবে তারা?

First Published: Thursday, November 22, 2012, 09:37


comments powered by Disqus