সীমান্তে বর্বরতা, পাক হাই কমিশনারকে তলব বিদেশ মন্ত্রকের

Last Updated: Wednesday, January 9, 2013 - 09:46

নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকসেনার বর্বরতাকে প্ররোচনা হিসেবেই দেখছে ভারত। এ নিয়ে আলোচনার জন্য পাক হাই কমিশনার সলমন বশিরকে তলব করল বিদেশ মন্ত্রক। প্রতিক্রিয়ায় কড়া বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে। পুঞ্চের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ভারতের পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে উস্কানিমূলক, অমানবিক এবং অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটায় জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার মেন্ধর সেক্টর।  পাক সেনাবাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিম ঘন কুয়াশা ও জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে কৃষ্ণাঘাটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভারতীয় সেনার টহলদারি ইউনিট ওই অনুপ্রবেশ দেখতে পেয়ে তাদের বাধা দেয়। আধঘণ্টার গুলির লড়াই শেষে পাকসেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু ততক্ষণে লড়াইয়ে দুই ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন ল্যান্স নায়েক হেমরাজ এবং ল্যান্স নায়েক সুধাকর সিং। বর্বরতার শুরু ওই দুই জওয়ানের মৃতদেহ নিয়েই। হামলাকারী পাকসেনারা পিছু হটার সময় নিহত এক জওয়ানের মুণ্ড কেটে নিয়ে চলে যায়।
যদিও আরেকটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই জওয়ানেরই মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়েছে। হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুই জওয়ান। নিয়ন্ত্রণ রেখার একশো মিটার ভিতরে ঢুকে এই হামলা চালায় পাকসেনা। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
পুঞ্চের হানাদারির ঘটনায় কার্গিলের ছায়া দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তখনও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে লাহোর বাসযাত্রার পরেই ঘটেছিল সামরিক বিশ্বাসঘাতকতা। এবারও তাই। ছাব্বিশ এগারোয় মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর, দুদেশের সম্পর্ক থমকে গিয়েছিল। থিম্পুর সার্ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দুদেশের সম্পর্ক  স্বাভাবিক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তারপর থেকে ভারত-পাক সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ভারতে এসে ভিসা সরলীকরণ চুক্তি করে যান পাক অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রেহমান মালিক। দীর্ঘ নয় বছর পর ভারতের মাটিতে খেলতে এসেছিল পাক ক্রিকেট দল। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সৌজন্যের সেই বাতাবরণে ফের ছেদ ফেলল পাকিস্তান। নিয়ন্ত্রণরেখায় বর্বরতার খবরে বিস্মিত নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মতে, যুদ্ধের আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে এই বর্বরতা, প্ররোচনারই সামিল।
পাক বর্বরতায় প্ররোচনার ইঙ্গিত পাচ্ছেন ভারতের সামরিক বিশেষজ্ঞরাও। মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি পাকিস্তান। তা সত্ত্বেও দুদেশের মানুষের শান্তির কথা মাথায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছিল নয়াদিল্লি। মঙ্গলবারের ভারত-পাক সীমান্তে ভারতীয় সেনার ওপর নৃশংস হামলায় সেই প্রক্রিয়া  জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে বর্বরোচিত হামলা চালায় পাকসেনা। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকে দুই ভারতীয সেনাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক সেনা। দুই ভারতীয় জওয়ানের মধ্যে একজনের কাটা মাথা পাক সেনারা সঙ্গে নিয়ে গেছে বলে খবর। পুঞ্চের মেন্ধর সেক্টরের এই ঘটনায় দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসফাক কায়ানি পাকসেনাবাহিনীকে সব রকম আক্রমণ মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে বলেছেন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।



First Published: Wednesday, January 9, 2013 - 10:30


comments powered by Disqus