ভূমিকম্পের কাঁপুনিতে মিশে গেল সুনামির আতঙ্ক

বুধবার দুপুরের দু`সেকেন্ডের অভিঘাত চেন্নাইবাসীর মনে জাগিয়ে তুলুল সাড়ে সাত বছর আগেকার ভয়াবহ ভূকম্পিত জলোচ্ছ্বাসের দগদগে স্মৃতি। দক্ষিণ প্রান্তের গোল্ডেন বিচ পর্যটনকেন্দ্র থেকে এগমোর এলাকার ব্যস্ত অফিসপাড়া- এক লহমায় সুমাত্রার ভূগর্ভের ৮.৯ রিখটারের কাঁপুনি আতঙ্ক হয়ে ছড়িয়ে পড়ল তামিল মুলুকের প্রাণকেন্দ্রে।

Updated: Apr 11, 2012, 07:09 PM IST

বুধবার দুপুরের দু'সেকেন্ডের অভিঘাত চেন্নাইবাসীর মনে জাগিয়ে তুলুল সাড়ে সাত বছর আগেকার ভয়াবহ ভূকম্পিত জলোচ্ছ্বাসের দগদগে স্মৃতি। দক্ষিণ প্রান্তের গোল্ডেন বিচ পর্যটনকেন্দ্র থেকে এগমোর এলাকার ব্যস্ত অফিসপাড়া- এক লহমায় সুমাত্রার ভূগর্ভের ৮.৯ রিখটারের কাঁপুনি আতঙ্ক হয়ে ছড়িয়ে পড়ল তামিল মুলুকের প্রাণকেন্দ্রে।
শুধু চেন্নাই নয়, দক্ষিণ তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী থেকে ওড়িশার উপকূল শহর বেরহামপুর- ইন্দোনেশিয়ার প্রবল ভূমিকম্পের রেশ এদিন ২০০৪-এর ২৬ ডিসেম্বরের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল বঙ্গোপসাগর উপকূলের অধিকাংশ অঞ্চল জুড়েই। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার ও জাপান মেটেরিয়োলজিক্যাল এজেন্সির সুনামি সতর্কতা কর্ণগোচর হওয়ার ঢের আগেই শুরু হয়, সাগরপাড় থেকে সরে আসার হুড়োহুড়ি। সাড়ে সাত বছর আগের সুনামিতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া মত্‍সজীবী অধ্যুষিত নাগাপত্তনম জনপদের বহু মানুষ আশ্রয় নেন অনতিদূরের তিরুভারুর জেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলে। চেন্নাইতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরই বহুতলগুলি থেকে রাস্তায় নেমে আসতে শুরু করে মানুষজন। তামিলনাড়ু সরকারের তরফে রাজ্য জুড়ে সুনামি অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়। জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকায় মত্স্যজীবীদের বারণ করা হয় সমুদ্রে যেতে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী ন'টি জেলায় সতর্কতা জারি করে রাজ্য সরকার। অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশেও ভূগর্ভস্থ কাঁপুনির রেশ টের পাওয়া যায় ভালোমতোই। কেঁপে ওঠে গুয়াহাটি, ডিব্রুগড়, বারাক ভ্যালির মতো জায়গা। উজান অসম এবং নিম্ন অসম উভয় অংশেই কম্পন অনুভূত হয়।

২০০৪-এর সুনামিতে প্রবল ক্ষতিগ্রস্থ আন্দামান ও নিকোবরে কেন্দ্রের তরফে সম্ভাব্য সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রথমে সুনামি সতকর্তা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। লিটল আন্দামান, গ্রেট নিকোবর, ক্যাম্পবেল বে'র মতো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দক্ষিণ আন্দামান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বেশ কিছু মানুষকে। আন্দামান ও নিকোবরে ত্রাণ সাহায্য সহ দু'টি বিমান পাঠিয়েছে বায়ুসেনা। গিয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-র বিশেষ দল এবং সেনাবাহিনীর আপত্‍কালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীও। বিকেলের দিকে ৮.২ রিখটারের আফটার শক অনুভূত হওয়ার পর নতুন করে শুরু হয় সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকানোর তত্‍পরতা। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির রোষের শিকার হতে হয়নি।
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী বাংলাদেশের বন্দর শহর চট্টগ্রামেও এদিন ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। শহরের মেহেদীবাগ এলাকার বহুতল 'অ্যাম্বাসেডর ভবন' হেলে পড়ে। ২০০৪-এ বান্দা আচে'র ৯.১ রিখটারের অভিঘাত প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল লক্ষাধিখ মানুষের। এবার কেন সেই ভয়াবহ দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি হল না? কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০০৪-এ সুনামি হয়েছিল যে ভূমিকম্পের কারণে সেটি মাটির তলদেশ থেকে উপরের দিকে ধাক্কা দিয়ে উঠে। বুধবারের সুমাত্রা দ্বীপের অদূরে সমুদ্রের গভীরের ভূমিকম্পটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাটির ধাক্কার ঊর্ধ্বমুখী হয়নি। ফলে এড়ান গিয়েছে বিপুল প্রাণহানির সম্ভাবনা।

যদিও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আফটারশক জনিত বিপর্যয়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না সাউথ ব্লক। ইতিমধ্যেই বিদেশমন্ত্রকের নির্দেশে জাকার্তার ভারতীয় দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম (Landline: 0062-21-5204150, 0062-21-5204152, Mobile: 0062-81586408622) খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ মেডান শহরের ভারতীয় কনস্যুলেট (Landline: 0062-61-4531308, 0062-61-4522169, Mobile: 0062-8982897766) এবং থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের ভারতীয় দূতাবাসেও (Telephone: 0066-2-2604166 & 2580300 থেকে 06)। ভূমিকম্পদুর্গত এলাকাগুলিতে কর্মরত ভারতীয়দের বিষয়ে তাঁদের পরিজনরা খোঁজ নিতে পারবেন এই নম্বরগুলিতে।