নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কিডনি চুরির অভিযোগ

Update: December 10, 2012 12:16 IST

মৃত্যুর পর আট দিন কেটে গেলেও দেওয়া হল না মৃতার ডেথ সার্টিফিকেট। এমনকী মৃতদেহও দেওয়া হল না পরিবারকে। সোনারপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ মৃতা অপর্না সর্দারের পরিবারের। এমনকী মৃত্যুর কোনও কারণও নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। অপর্না দেবীর কিডনি চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ এখনও জানেন না মন্টু সর্দার। পেশায় দিনমজুর মন্টু বাবু গত ৯ অক্টোবর স্ত্রী অপর্না সর্দারকে সোনারপুরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। প্রায় দেড় মাস সেখানে চিকিত্‍সাধীন থাকা সত্বেও অপর্ণাদেবীর ঠিক কী হয়েছে তা নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী গত ৩০ নভেম্বর অপর্ণা সর্দারের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ  বা ডেথ সার্টিফিকেটের কোনওটাই এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ  তাঁর স্বামী মন্টু সর্দারের।
 
না জানিয়ে তড়িঘড়ি কী কারণে অপর্ণা সর্দারের অপারেশন করা হল তারও কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। আর সেই কারণেই অপর্ণাদেবীর কিডনি চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। মৃতদেহের ফরেন্সিক রিপোর্ট তলব করেছে মানবাধিকার কমিশন। একইসঙ্গে মন্টু সর্দারের পাশে দাঁড়ানো মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অবিলম্বে বন্ধ করা হোক অভিযুক্ত নার্সিংহোমটি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।