অর্ধেক আকাশের লড়াই

Update: March 8, 2013 08:48 IST

লিঙ্গ বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে সেই লড়াইয়ের মাঝেই সমাজে আক্রান্ত হচ্ছেন নারীরা। দিল্লির নির্ভয়ার পরিণতিতে শিউড়ে উঠেছে গোটা দুনিয়া। পার্কস্ট্রিটে, কাটোয়ায়, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। এসবের মাঝেই নারীসুরক্ষা নিশ্চিত করার দৃপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে আরও একবার হাজির আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

দিল্লির গণধর্ষণের পর দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে পথে নেমেছিল গোটা দেশ। তরুণী নির্ভয়াই একসূত্রে বেঁধে দিয়েছিল সকলকে। তবু ধর্ষণ থামেনি। নারী সুরক্ষার চূড়ান্ত বেআব্রু ছবিটা অবশ্য আগেই পরিস্কার হয়েছিল এরাজ্যে। যেখানে অপরাধীদের কাঠগড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াতেই হোঁচট খেয়েছিলেন পার্কস্ট্রিটের নির্যাতিতা মহিলা। সরকারি তরফে চরম উদাসীনতার সঙ্গেই তাঁর কপালে জুটেছিল বাছা বাছা কটূক্তি। আর সাফল্যের সঙ্গে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করায় পদ থেকে সরতে হয়েছিল আরেক মহিলা পুলিস আধিকারিককে।
 
ধর্ষণের অভিযোগ তোলায় রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর কোপে পড়েছেন কাটোয়ার ধর্ষিতাও। একের পর এক মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগকে সাজানো ঘটনা বলেই দাবি করেছেন রাজ্যের মহিলা প্রশাসনিক প্রধান।
মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়েছে সব জায়গাতেই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপধ্যায়ের বার্তাতেও তাই নারীসুরক্ষাই গুরুত্ব পেয়েছে। একই সুর ধরা পড়েছে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের বার্তাতেও। নারীসুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের সেই বার্তায় আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে দিল্লির নির্ভয়ার কথা। সঙ্গে আরেক নির্ভয়া কিশোরীর কাহিনী।

মালালা ইউসুফজাই। মৌলবাদীদের বুলেটও যাকে দমাতে পারেনি নারীশিক্ষার দাবি তোলা থেকে। এবছরের নারী দিবসে দিল্লির নির্ভয়া, পার্কস্ট্রিটের নির্যাতিতার সঙ্গেই তাই একাকার হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের সেই কিশোরীর নাম। সেইসব মুখ গুলোকে সামনে নিয়েই জোরদার হচ্ছে অর্ধেক আকাশের লড়াই।
 



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।