ইশরত জাহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলা, সিবিআই নিশানায় ২০ পুলিসকর্তা

ইশরত জাহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় গুজরাত পুলিসের ২০ জন অফিসারকে `দোষী` হিসেবে চিহ্নিত করল সিবিআই। এই তালিকায় রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আমদাবাদ পুলিসের অপরাধ দমন শাখার প্রধান, যুগ্ম কমিশনার পি পি পাণ্ডে, প্রাক্তন অতিরিক্ত কমিশনার জি এল সিংঘল, অতিরিক্ত কমিশনার এন কে আমিন এবং সাসপেন্ড ডিআইজি ডি জি বানজারার নাম।

Updated: Dec 17, 2011, 02:05 PM IST

ইশরত জাহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় গুজরাত পুলিসের ২০ জন অফিসারকে `দোষী` হিসেবে চিহ্নিত করল সিবিআই। এই তালিকায় রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আমদাবাদ পুলিসের অপরাধ দমন শাখার প্রধান, যুগ্ম কমিশনার পি পি পাণ্ডে, প্রাক্তন অতিরিক্ত কমিশনার জি এল সিংঘল, অতিরিক্ত কমিশনার এন কে আমিন এবং সাসপেন্ড ডিআইজি ডি জি বানজারার নাম। সোহরাবুদ্দিন-কওসরবি ভুয়ো এনকাউন্টার মামলাতও অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছে আমিন এবং বানজারার নাম।
২০০৪ সালের ১৫ জুন আমদাবাদের উপকণ্ঠে গুজরাত পুলিসের অপরাধ দমন শাখার সদস্যদের গুলিতে নিহত হন মুম্বইয়ের গুরু নানক খালসা কলেজের ১৯ বছরের কলেজ ছাত্রী ইশরত। তাঁর সঙ্গী জাভেদ শেখ ওরফে প্রাণেশ পিল্লাই, আমজাদ আলি রানা ওরফে সেলিম এবং জিশান জোহরও আমদাবাদ পুলিসের তত্‍কালীন ডিআইজি ডি জি বানজারার নেতৃত্বাধীন টিমের এই `অপারেশন`-এ মারা যান।
সেলিম এবং জিশান পাকিস্তানের বাসিন্দা। গুজরাত পুলিসের অভিযোগ, এরা জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় সদস্য। ইশরত এবং জাভেদকে লস্করের স্লিপার সেলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিসের তরফে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুন করার জন্যই আমদাবাদে এসেছিলেন ইশরত এবং তাঁর সঙ্গীরা।
যদিও ইশরতের মা শামিমা কৌসর সরসরি গুজরাত পুলিসের এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে মেয়ের মৃত্যুর নিরপক্ষ তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এর পর আমদাবাদের নগর ও দায়রা আদালতের বিচারক এস পি তামাংয়ের নেতৃত্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন ইশরত জাহানকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছিল বলে রিপোর্ট দেয়। এই `ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ডে`র জন্য ২১ জন পুলিস অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয় রিপোর্টে।

গত বছরের অগাস্ট মাসে ইশরত কাণ্ডের তদন্তের জন্য প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর আর কে রাঘবনের নেতৃত্বাধীন সিট-কে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এক মাস পর রাঘবন এই দায়িত্ব পালনে তাঁর অপারগতার কথা জানানোয় সিট-এর প্রধান হিসেবে আর আর ভার্মাকে নিযুক্ত করা হয়।
গত ২১ নভেম্বর আর আর ভার্মার নেতৃত্বাধীন `সিট`-এর তরফে গুজরাত হাইকোর্টে পেশ করা তদন্ত রিপোর্টে জানান হয়, ঠাণ্ডা মাথায়, সাজানো `এনকাউন্টার`-এ মুম্বইয়ের কলেজছাত্রী ইশরত জাহানকে খুন করেছিল আমদাবাদ পুলিস। এর পরই হাইকোর্টের তরফে অভিযুক্ত পুলিস অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয় সিট-কে।
এর পর গত ১ ডিসেম্বর বিচারপতি জয়ন্ত প্যাটেল এবং বিচারপতি অভিলাশা কুমারীকে নিয়ে গঠিত গুজরাত হাইকোর্টের বেঞ্চ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে ইশরত জাহান ভুয়ো সংঘর্ষ মামলার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর সিট` এর রিপোর্টের সত্যতা সম্পর্কে নিঃসংশয় হয়ে অভিযুক্ত ২০ জন পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে সিবিআই।