ওড়িশায় মহিলা কনস্টেবল নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত জগদীশ টাইটলের

গত বৃহস্পতিবার ওড়িশায় পুলিস-কংগ্রেস কর্মী সংঘর্ষে এবার জড়িয়ে গেল কংগ্রেস নেতা জগদীশ টাইটলরের নাম। ওই দিনের ঘটনায় নিগৃহীতা মহিলা কনস্টেবল প্রমিলা প্রাধি তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। টাইটলরের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারী মামলা।

Updated: Sep 8, 2012, 03:00 PM IST

গত বৃহস্পতিবার ওড়িশায় পুলিস-কংগ্রেস কর্মী সংঘর্ষে এবার জড়িয়ে গেল কংগ্রেস নেতা জগদীশ টাইটলরের নাম। ওই দিনের ঘটনায় নিগৃহীতা মহিলা কনস্টেবল প্রমিলা প্রাধি তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। টাইটলরের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারী মামলা।
ঘটনার দিন কোলব্লক ইস্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের পদত্যাগ চেয়ে হাজারেরও বেশী কংগ্রেস কর্মী ওড়িশা বিধানসভা ঘেরাও এর চেষ্টা করে। পুলিস তাদের বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ বাধে দু`পক্ষের মধ্যেই। পুলিস জল কামান, ব্যাটন আর কাঁদানে গ্যাস দিয়ে এই ঘেরাও কে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে ব্যারিকেড ভেঙ্গে কংগ্রেস কর্মীরা এগিয়ে আসে। প্রমিলা প্রাধি অভিযোগ জানিয়েছেন এই সময় টাইটলের উন্মত্ত জনতা কে ক্ষেপিয়ে তোলেন। কংগ্রেস কর্মীরা তাঁকে আক্রমণ করে বেধরক মারধোর শুরু করে। প্রমিলা বলেন,"জগদীশ টাইটলর পার্টি কর্মী দের `ব্যারিকেড` ভেঙ্গে এগিয়ে যেতে বলার সঙ্গে সঙ্গেই ৩০-৪০ জন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সবাই মিলে আমাকে লাথি মারতে শুরু করে। চেষ্টা করে শ্লীলতাহানির।" স্থানীয় এবং জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল গুলিতে এই মহিলা কনস্টেবলের উপর বাঁশের লাঠি নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের মারের ছবি বারবার প্রচারিত হওয়ায় সারা দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় কংগ্রেস নেতৃত্বকে। শুক্রবার `ওড়িশা পুলিস অ্যাসোসিয়েশন`র পক্ষ থেকে পুলিস কর্মীদের মারধরে লিপ্ত থাকা সবার গ্রেপ্তার দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ওড়িশার এআইসিসি দায়িত্বে থাকা জগদীশ টাইটলরের নাম অভিযুক্ত তালিকায় এসে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড। প্রমিলা প্রাধির নিগ্রহের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কংগ্রেস কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। তবে, এর সঙ্গেই কংগ্রেস নেতা প্রসাদ হরিচন্দন টাইটলরের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন " টাইটলর মোটেও সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন নি। `জেল ভরো` কর্মসূচীর জন্য তিনি কর্মীদের একজোট করার চেষ্টা করেছিলেন মাত্র। আমি মোটেও কর্মীদের একত্রিত করার প্রয়াসকে অপরাধ বলে মনে করিনা।``
বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কিছু পুলিশ কর্মী সহ ১০০ জন আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩ জন কে।