ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা ভোটে ধরাশায়ী বিজেপি

Update: May 3, 2012 16:49 IST

টানা এক সপ্তাহ ধরে কংগ্রেস নেতৃত্বকে প্রবল উত্‍কণ্ঠায় রেখে শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভা নির্বাচনে অংশ নিল না বাবুলাল মারান্ডির দল। যদিও প্রাক নির্বাচনী শরিক ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা(প্রজাতান্ত্রিক)-র ১১ বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকার ফলে তেমন ক্ষতিবৃদ্ধি হল না কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ কুমার বালমুচুর। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-র প্রার্থী সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হলেন ঘাটশিলার এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। আর শরিক জেএমএম-এর সঙ্গে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ার কারণে অপ্রত্যাশিত পরাজয় হল ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অন্যতম দল বিজেপি'র প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার।  

গত ৩০ মার্চ ঝাড়খণ্ডের ২টি রাজ্যসভা আসনের জন্য ভোটগ্রহণ ও গণনার নির্ঘণ্ট স্থির করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোটপর্ব চলাকালীন রাঁচির কাছে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রভাবশালী নির্দল প্রার্থী আর কে আগরওয়ালের ভাইয়ের গাড়ি থেকে আয়কর দফতরের অফিসাররা নগদ ২ কোটি ১‍৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করার পর প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে। পত্রপাঠ নির্বাচন কমিশনের তরফে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে মনোনয়ন ও ভোটগ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের কাছে। রাষ্ট্রপতি দ্রুত সেই সুপারিশ মঞ্জুর করেন। নয়া ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ বালমুচুর পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন বিজেপি'র রাজ্যসভার সহকারী নেতা সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া এবং জেএমএম-এর সঞ্জীব কুমার।

৮২ আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায়(বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ৮০) জেএমএম এবং বিজেপি-দু'দলেরই আসনসংখ্যা ১৮। পক্ষান্তরে কংগ্রেসের রয়েছেন ১৩ জন বিধায়ক। জনতা দল(ইউনাইটেড)-এর দুই বিধায়ক বিজেপি'কে এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল(আরজেডি)-এর ৫ বিধায়ক কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। অন্যদিকে সিপিআই(এমএল-লিবারেশন)-এর একমাত্র বিধায়ক বিনোদ কুমার সিং ভোটদানে বিরত থাকার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন(আজসু)-এর ৫, জেভিএম(প্রজাতান্ত্রিক)-এর ১১ এবং নির্দল ও ছোট দলগুলির জনা ছ'য়েক বিধায়কই হয়ে উঠেছিলেন যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্র। রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুণ্ডা তাঁর ক্যাবিনেটের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আজসু সভাপতি সুদেশ মাহাতোর কাছে ৫ বিধায়কের ভোট চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে রাজ্যের আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম সুপ্রিমো শিবু সোরেনের ছেলে হেমন্ত সোরেন আজসুর সমর্থন পেতে ভোটের প্রাক মুহূর্তে জাতীয় দলের দাদাগিরি রুখতে 'আঞ্চলিক দলের জোট' গড়ার ডাক দিয়েছিলেন।


হেমন্তের আর্জি মেনে আজসু পরিষদীয় দল জেএমএম প্রার্থী সঞ্জীব কুমারের পক্ষে ভোটদানের সিদ্ধান্ত নিলেও ২০০৯ সালের বিধানসভা ভোটের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের অনুরোধ মানেনি ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি। তাঁরই নির্দেশে এদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে রাজ্যসভা ভোটপর্ব বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় জেভিএম(প্রজাতান্ত্রিক) পরিষদীয় দল। এর ফলে কংগ্রেস প্রার্থী বালমুচুর পরাজয়ের সম্ভাবনা জোরাল হয় বলেই প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক মহলের পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। এদিন মোট ৬৮ জন বিধায়ক রাজ্যসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন প্রদীপ বালমুচু। সঞ্জীবকুমার পেয়েছেন ২৩টি ভোট। অন্যদিকে মাত্র ২০টি ভোট পেয়ে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে।



Post Your Comment

Total Comments:1

allyas congess.alltimecongress.only congress.jai hind. jai bharat.Rahul Gandhi jindabad. Debaprasad Raha.(president DumDum(uttar)AYC.MOB-091636153643

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।