ঝিঙে খোসা বাটা

Update: October 8, 2012 09:54 IST

না দাদা (এবং দিদিরাও) আমরা বাঙালরা জিনিস নষ্ট করার একেবারেই পক্ষপাতি নই। মাছের কাঁটা হোক বা আলুর খোসার মত আপাত বাতিল ব্যাপার স্যাপারগুলোকে ডেলিকেসিতে পরিণত করতে হেব্বি ভালবাসি। সেই রকম বাঙাল খানা খাজানার দরবার থেকে আমাদের এবারের নিবেদন ঝিঙে খোসা বাটা। ঝিঙে পোস্ত, সর্ষে পোস্ত ঝিঙে, বা ঝিঙে দিয়ে ইলিশের পাতলা ঝোল তো অনেক খেলেন। এইবার ঝিঙের খোসাটাকেই পাতে স্থান দিয়ে দেখুনই না। গ্যারান্টি দিচ্ছি একবার খেলেই বলবেন `অল্পেতে মন ভরেনা। এ স্বাদের ভাগ হবে না`।

কী কী লাগবে

ঝিঙে খোসা ( ২ টো ঝিঙের খোসা)
নুন (স্বাদ মত)
কাঁচা লঙ্কা ( যে যত ঝাল খান, তবে অন্তত্য গোটা ৩)
রসুন কোয়া ( ৫-৬ কোয়া)
একটু চিনি
কালো জিরে
টক দই
অল্প গরম মশলা
সর্ষের তেল

কীভাবে বানাবেন

প্রথমে কাঁচা লঙ্কা আর রসুন দিয়ে ঝিঙে খোসা বেটে ফেলতে হবে। এরপর কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে প্রথমে কালো জিরে ফোড়ন দিতে হবে। এবার তাতে ঝিঙে খোসা বাটা যোগ করতে হবে। আঁচ কমিয়ে পরিমাণ মত নুন দিয়ে ভালো করে ক্রমাগত নাড়তে হবে। এরপর একটু টক দইয়ে অল্প শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো আর চিনি দিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে যোগ কড়তে হবে কড়াইতে। এরপর ভাল করে পুরো ব্যাপারটা মিশে গেলে অল্প গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম ভাতের সঙ্গে এর মেলবন্ধন জাকিরের তবলার সঙ্গে রবিশঙ্করের সেতারের অনন্য যুগলবন্দীকে মনে করিয়ে দেবেই।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।