কাজ শুরু করে দিলেন করিম

Update: November 21, 2012 20:35 IST

মোহনবাগান কোচ হিসাবে কাজ শুরু করে দিলেন করিম বেঞ্চিরিফা। বাগানে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম দিনে করিমকে বেশ ঝরঝরে দেখালো। করিমের প্রথম দিনের অনুশীলনে ট্রেভর মরগ্যানের ছায়া। সঙ্গে করিম তাঁর দলের দুই ফুটবলারকে দুটো বড় কথা বললেন। রহিম নবিকে রিয়ালের তারকা মিডফিল্ডার মাইকেল এসিয়েনের সঙ্গে তুলনা করলেন। আর ওডাফাকে নিয়ে বললেন, তিনি চান ওডাফাই আই লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হোন।
অনুশীলনে নেমেই প্রথমে ফিটনেস ট্রেনিং নিয়ে পড়লেন। তারপর ওয়ান টাচ ফুটবলার। তবে মাত্র বারো জন ফুটবলারকে নিয়ে অনুশীলন করালেন মরোক্কান কোচ। বেশ কয়েকজন ফুটবলারদের চোট রয়েছে।তাদের ফিট করাই প্রাথমিক লক্ষ্য হতে চলেছে করিমের। শুরুতেই শক্ত চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন সালগাঁওকর কোচের সামনে। আগামী ২১ দিনে তিনটে অ্যাওয়ে ম্যাচের পাশাপাশি খেলতে হবে ডার্বি ম্যাচ। অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো থেকে সর্বাধিক পয়েন্ট পেয়ে ডার্বির প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছেন করিম।

মোহনবাগান কোচ মনে করছেন আই লিগ এখনও সব দলের কাছেই খোলা। কয়েকটা ম্যাচ পরপর জিতলে, তারাও চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
মোহনবাগানের দায়িত্ব নিয়েই ফুটবলারদের ফিটনেসের উপর গুরুত্ব দিলেন করিম বেঞ্চিরিফা। দীর্ঘক্ষণ ওডাফা,দীপেন্দুদের ফিটনেস ট্রেনিং করালেন মরোক্কান কোচ। বলা হয়ে থাকে ভারতে কোচিং করানো কেচেরদের মধ্যে করিমের প্রাক মরসুম প্রস্তুতি সবচেয়ে ভাল। এবার মোহনবাগানে সেই সুযোগ পাননি। তাই দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই জোর দিলেন ফিটেনেসে। করিম বলছেন,ফিটনেস একটা পদ্ধতি। যা সারাবছর ধরে রাখতে হয়।
ম্যারাথন আই লিগের এখনও বেশিরভাগটাই বেশি। তাই করিম বলছেন,ফুটবলারদের ফিটনেস লেভেল ঠিক করে ফেলবেন। মঙ্গলবারই স্ট্রাইকার পজিসনে নেমে গোল করেছিলেন রহিম নবি। সেই নবিকে নিয়ে প্রশংসায় মাতলেন করিম। এই মরসুমে কথনও রাইড ব্যাক আবার কখনও মাঝমাঠে খেলেছেন জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার। নবির মত ফুটবলার যেকোন কোচের কাছেই সম্পদ। তাই করিম এদিন কথা বলেন নবির সঙ্গে। মোহনবাগান কোচ বলছেন,দলের স্বার্থে নবিকে যে কোন পজিশনে ব্যাবহার করা যায়। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নবিকে স্ট্রাইকার পজিসনে ফের খেলানোর ইঙ্গিত দিলেন করিম।
দায়িত্ব নিয়েই করিম বলেছিলেন তিনি চান,আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোন ওকেলি ওডাফা। মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবারই প্রথম সাক্ষাত হয় ওডাফা আর করিমের। চার্চিলের তিক্ত সম্পর্ক পেছনে ফেলে পাক্কা পেশাদারের মতই করিমকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন নাইজেরীয় গোলমেশিন। অনুশীলন শেষে ওডাফা বলছেন,তিনি চান দেশের সেরা কোচ হন করিম। আগামী দুসপ্তাহে বেশ কয়েকটা কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে মোহনবাগানকে। করিমের কোচিংয়ে তারা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলে জানাচ্ছেন মোহনবাগান গোলমেশিন।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।