`দিশাহীন` কেজরিওয়ালকে আটক করল পুলিস

Update: October 12, 2012 21:24 IST

দিল্লি পুলিসের হাতে আটক হলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অভিযান করার সময় কেজরিওয়াল ও তাঁর সঙ্গীদের আটক করা হয়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় অনিয়মের জেরে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমন খুরশিদের পদত্যাদের দাবিতে সরব হয়েছেন কেজরিওয়ালরা।

এদিন সকালে সদ্য রাজনীতিতে পা রাখা কেজরিওয়াল ও রাষ্ট্রীয় বিকলাঙ্গ পার্টির প্রায় সত্তর জন সমর্থক ৭ রেসকোর্স রোডের দিকে এগোলে, রাজপথের কাছে তাঁদের আটকে দেয় পুলিস। সেখানেই অবস্থানে বসার চেষ্টা করায় তাঁদের আটক করে দিল্লি প্রশাসন। অবস্থানকারীরা দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। শুক্রবার দিনভর প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও খুরশিদের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন কেজরিওয়ালপন্থিরা।

মূলত দুটি দাবি থেকে সরে আসতে কার্যত নারাজ কেজরিওয়াল এদিন বলেন, "এখানেই আর একটি তাহরির স্কোয়ার করতে হবে।" যদিও কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আইএসি-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শুক্রবারের প্রতিবাদ কর্মসূচীটি আরভিপি পার্টির তরফেই আয়োজিত হয়েছিল এবং তাঁরা সেখানে শুধুমাত্র অতিথি হিসাবে যোগ দেন। আইএসি এই দাবি করলেও এদিনের কর্মসূচীতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁদের তরফে বহু মানুষের কাছে এসএমএস পাঠানো হয়। ইন্ডিয়া এগেনস্ট করাপশনের এক সমর্থকের কথায়, "আইএসি সমর্থিত প্রতিবন্ধীরা আজ জনপথে বিক্ষোভে বসেন।" প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান ওই ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁদের কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল।

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে এদিন অভিযোগ করা হয়েছে, `দিশাহীন মিসাইল` কেজরিওয়ালের আন্দোলন বস্তুত মদত যোগাচ্ছে কংগ্রেসকেই। এদিন বিজেপি মুখপাত্র মুক্তার আব্বাস নখবি বলেন, "অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন চালালে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই।" কিন্তু এই সরকার বিরোধী আন্দোলন আখের কেন্দ্র সরকারের সমর্থনে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নখবি আরও বলেন, "আন্না হাজেরের নেতৃত্বে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন সুপরিচালিত হলেও, এখন তা `দিশাহীন মিসাইলে` পরিণত হয়েছে।"

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।