কেজরিওয়ালের `দুর্নীতি` অভিযোগের তিরে বিদ্ধ এবার বিজেপিও

Last Updated: Wednesday, October 17, 2012 - 23:12

আটচল্লিশ ঘণ্টার নোটিশ। তারপরই প্রত্যাশিত ভাবে বিজেপি সভাপতি নিতিন গড়করির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গড়করির বিরুদ্ধে কেজরিওয়ালের অভিযোগ, কংগ্রেস-এনসিপি নেতৃত্বাধীন জোট মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে বিজেপি সভাপতি কৃষি জমি অধিগ্রহণ করেছেন।
সদ্য রাজনীতির অলিন্দে পা রাখা কেজরিয়াল আজকের `মেগা` সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক দলগুলির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরোধিতা করার ছলনায় `সুসম্পর্ক` বজায় রেখে চলে। গোটা দেশে `লুট` চলেছে বলেও অভিযোগ হানেন কেজরিওয়াল।
বিশেষত মহারাষ্ট্রে, বিজেপি তদানীন্তন কংগ্রেস-এনসিপি সরকারের সঙ্গে `মিঠেকড়া` সম্পর্ক বজায় রাখার শর্তেই রাজ্য সেচ দপ্তরের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি প্রসঙ্গে `নিরব` থেকেছে বলে অভিযোগ করেছেন এই সমাজকর্মী। আইএসি-র অন্যতম সদস্য প্রশান্ত ভূষণকে পাশে নিয়ে মহারাষ্ট্রের আরেক সমাজকর্মী অঞ্জলি দামানিয়া অভিযোগ তোলেন, প্রাক্তন সেচ মন্ত্রী অজিত পাওয়ারের নির্দেশেই গড়করির জন্য রাতারাতি সেচ দপ্তরের নিয়ম পাল্টে ফেলা হয়।
তাঁর দাবি, নাগপুরে বাঁধ নির্মাণের স্বার্থে বিশাল অংশের কৃষিজমি অধিগ্রহণ করেও পুর্ণর্বাসনের জমি সবটাই নিতিন গড়করির নামে করে দেওয়া হয়। এই গোটা বেনিয়মটাই মন্ত্রী অজিত পাওয়ারের `মধ্যস্থতায়` হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কেজরিওয়ালের সংযোজন, ২০০২সালে মহারাষ্ট্র প্রশাসন চাষিদের পূর্ণর্বাসনের দাবি খারিজ করে। এবং ২০০৫ সালে গড়করির আবেদনের কয়েকদিনের মধ্যেই সেই জমি তাঁকে হস্তান্তর করে দেয়। এই বিষয়ে উপযুক্ত নথী-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কেজরিওয়াল। জমি পাইয়ে দেওয়ার জন্য বৈদর্ভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন সেচ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
ওদিকে, বিজেপি সভাপতি নিতিন গড়করির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। মহারাষ্ট্রে জমি অধিগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্ন জালের সব উত্তর রাজনৈতিক রণকৌশলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল, এমনটাই জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজ। বুধবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তরফে অভিযোগ আনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপির দুই মুখ সুষমা স্বরাজ ও অরুন জেটলি দলীয় সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডনে সামনে আসেন। তাঁরা দু`জনেই গোটা অভিযোগকে `মিথ্যা` ও `ভিত্তিহীন` বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।



First Published: Wednesday, October 17, 2012 - 23:30


comments powered by Disqus