বাতিল হল কিংফিশারের লাইসেন্স

Update: October 20, 2012 18:06 IST

বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থা কিংফিশার এয়ারলাইন্সের লাইসেন্স সাসপেন্ড করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ। দীর্ঘদিন যাবত আর্থিক সঙ্কটে থাকা কিংফিশার এয়ারলাইন্সকে আজকের মধ্যে কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করতে বলেছিল ডিজিসিএ। কিন্তু, তা পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংফিশার এয়ারলাইন্স। গত দশমাস ধরে একের পর এক উড়ান বাতিল এবং কর্মীদের বেতন দিতে পারছিল না বিমান পরিবহণ সংস্থাটি।

ক্ষতির পরিমাণ আটহাজার কোটি টাকা। তার ওপর প্রায় সাড়ে সাতহাহাজ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সবমিলিয়ে গত দশমাস ধরে চরম আর্থিক সঙ্কটে কিংফিশার এয়ারলাইন্স। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে প্রতিনিয়ত উড়ানের সংখ্যা কমাতে শুরু করে বিমান পরিবহণ সংস্থাটি। কিন্তু, তাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। কোপ পড়ে কর্মীদের বেতনেও। একের পর এক উড়ান বাতিল হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। বারবার আলোচনাতেও বেরিয়ে আসেনি কোনও সমাধানসূত্র। এই পরিস্থিতিতে গত পাঁচই অক্টোবর কিংফিশারকে নোটিস দেয় ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন বা ডিজিসিএ। জানতে চাওয়া হয় এই চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কেন সংস্থাটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। একই সঙ্গে বিশে অক্টেবরের মধ্যে কিংফিশার এয়ারলাইন্সকে একটি কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনাও পেশ করতে বলে ডিজিসিএ। কিন্তু, তাতেও ব্যর্থ হয়েছে কিংফিশার এয়ারলাইন্স। এরপরই লাইসেন্স সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত। ডিজিসিএ-র সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে জানিয়েছেন এনডিএ আহ্বায়ক শরদ যাদব।

যতদিন না কিংফিশার এয়ারলাইন্স ডিজিসিএ-র কাছে সন্তোষজনক আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করতে পারছে, ততদিন জারি থাকবে সাসপেনশন। দুহাজার তিন সালে এয়ার ডেকানকে লাইসেন্স দেয় ডিজিসিএ। পরবর্তীকালে এয়ার ডেকানকে কিনে নেয় কিংফিশার। কিন্তু, গত দুহাজার আট সাল থেকেই আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়ে বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থাটি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।