গুলিতেই মৃত্যু, মত ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের, তদন্ত চাইলেন ভারাভারা রাও

Update: November 25, 2011 21:06 IST

`কেন্দ্রীয় সরকার আজাদের সঙ্গে যা করেছে মমতা (বন্দ্যোপাধ্যায়)-র সরকার কিষেণজির সঙ্গেও তাই করল`। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সভায় এভাবেই রাজ্য সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিশিষ্ট কবি এবং কিষেণজির রাজনৈতিক গুরু ভারাভারা রাও।

বৃহষ্পতিবার কিষেণজির মৃত্যুর ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরেই `ভুয়ো সংঘর্ষ` বলে অভিহিত করে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন ভারাভারা রাও। এরপরই মধ্যস্থতাকারীদের অন্যতম সদস্য সুজাত ভদ্র, ছোটন দাস, এপিডিআর সহ বেশ কিছু মহল থেকে তদন্তের দাবি ওঠে। কিষেণজির ভাইঝি দীপার সঙ্গে কলকাতায় এসেই এপিডিআর-এর সভায় যোগ দেন তিনি ভারাভারা রাও।

যদিও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতে গুলিবিদ্ধ হয়েই মৃত্যু কিষেণজির। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সরকারি ভাবে প্রকাশিত নাহলেও, বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে কিষেণজির দেহে ২০টির ও বেশি আঘাতের চিহ্ন সহ ছ'টি বুলেট ও দুটি স্‌প্লিন্টার পাওয়া গেছে।এর থেকেই ডাক্তারদের প্রাথমিক অনুমান গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে কিষেণজির। শনিবার সকালে মেদিনীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে কিষেণজির দেহ শনাক্ত করলেন তাঁর ভাইঝি দীপা রাও। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারাভারা রাও।

বুড়িশোলের জঙ্গলে কিষেণজির হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতায় মহাকরণের উদ্দেশে মিছিল করে এপিডিআর সহ একুশটি সংগঠন। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মোড় থেকে মহাকরণের দিকে যাওয়ার পথে ফিয়ার্স লেনের মুখে পুলিস মিছিলকে আটকে দিলে সেখানেই পথ অবরোধ করে সভা করেন তাঁরা। পরে, এপিডিআরের দুই সদস্য ও দীপা রাওকে নিয়ে কিষেণজির মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে মহাকরণে স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে স্মারকলিপি দেন ভারাভারা রাও। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম মেনে কিষেণজির দেহের ময়নাতদন্তের দাবি জানান তিনি। মৃতদেহ সনাক্ত করতে কিষেণজির মা তাঁকে পাঠিয়েছেন বলে জানান দীপা রাও।


`বুড়িশোল এনকাউন্টার` কাণ্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন কিষেণজির মা। কিষেণজিকে খুনের অভিযোগে রিট পিটিশন দিয়েছেন তাঁর মা। ওই রিট পিটিশনকে সামনে রেখে এপিডিআর-এর মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টে দিন দুয়েকের মধ্যেই মামলা দায়ের করা হবে। তিনি নিজে এই মামলার তদারকি করবেন বলেও জানিয়েছেন ভারাভারা রাও।

অন্যদিকে, শুক্রবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথবাহিনীর বৃহস্পতিবারের অভিযান সম্পর্কে বলেন, 'রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে রুটিন অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। জঙ্গলমহলে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।'
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে মাওবাদী নেতা আজাদের মৃত্যুর পর রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে সভা করেন। আজাদের মৃত্যুর তদন্তের দাবিও তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের সাথে মাওবাদীদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। সে সময়ে মাওবাদীদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এখন মুখ্যমন্ত্রীর গলার সুর বদলে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে।


তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকারকে বিরোধিতা করে ২০০৪ সালে মাওবাদীরা ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডিকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে। আর ক্ষমতায় আসার পরেই মাওবাদীদের ওপর কঠোরতর হয় রেড্ডি সরকার।

তবে কি অন্ধ্রপ্রদেশের ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটল পশ্চিমবঙ্গেও? সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে মাওবাদীদের সম্পর্কেও ঘটে গেল আমূল পরিবর্তন। `এ রাজ্যে মাও-ফাও বলে কিছু নেই` থেকে একশো আশি ডিগ্রি সরে মাওবাদীদেরই `সুপারি কিলার` বলেছেন এখনকার মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে সেই অবস্থান বদলের শেষ পরিণতি হয়ে থাকল কিষেণজির মৃত্যু।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।