পুলিসের চোখরাঙানি তবু বামেদের সভায় আবেগের সাড়া

Update: October 9, 2012 09:51 IST

কলকাতা পুরসভার সামনে বামফ্রন্টের সভার মঞ্চ করতে বাধা দিয়েছিল পুলিস।
কিন্তু পুলিসি বাধার মুখে পড়েও বাম নেতারা মঞ্চ ছাড়াই, খালি গলায় সভা
করলেন। আগেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়ে দিয়েছিলেন পুলিস বাধা
দিলেও কলকাতা পুরসভার সামনে বামেদের সভা হবে। সেই অবস্থানেই অনড় ছিলেন বাম
নেতারা।
ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলল বিরোধীরা। গৌতম দেবের সভার পর এবার পুলিসের টার্গেট রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রর সভা। আর সেই সভা নিয়ে বিরোধী ও সরকার পক্ষের টানাপোড়েন তুঙ্গে। পুলিস কলকাতা পুরসভার সামনে বামেদের সভার অনুমতি দেয়নি। বাম নেতারা পাল্টা জানিয়েছেন, আগামিকালের সভা হবেই। কারণ ওই সভার কথা একমাস আগে পুলিসকে জানিয়েছিলেন তাঁরা।

মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার সামনে সভা করবে বামেরা। আটই সেপ্টেম্বর সে কথা কলকাতা পুলিসকে জানায় বামফ্রন্ট। একমাস পরে সাতই অক্টোবর নিউ মার্কেট থানার চিঠি আসে বাম নেতাদের কাছে। সেই চিঠিতে বলা হয়, কলকাতার পুরসভার সামনে সভা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বামেদের। এই সভা হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে বলে জানায় পুলিস। পাল্টা তোপ দাগে বাম নেতারাও। তাঁরা জানান, কলকাতা পুরসভার সামনেই তাঁরা সভা করবেন। অশান্তি হলে দায়ি থাকবে প্রশাসন।

তবে পুলিস কোনও সভার অনুমতি না দিলে মঞ্চ তৈরি এবং মাইক বাধা যথেষ্ট কঠিন। বাম নেতাদের বক্তব্য পুলিসি বাধার মোকাবিলা করেই সভা করবেন তাঁরা। বাম নেতাদের অভিযোগ, ডেঙ্গি মোকাবিলায় ব্যর্থ কলকাতা পুরসভা। ত্রিফলা আলো নিয়েও দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের তীব্র অভিযোগ উঠেছ। শহরের সৌন্দর্যায়নে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হলেও বহু জায়গাতেই পানীয় জলের সঙ্কট চলছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, তাঁরা এসব ইস্যুতে সরব হচ্ছেন বলেই সভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার বিরুদ্ধে একাধিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবীদের একাংশ বারবার প্রতিবাদের কন্ঠরোধ করার অভিযোগ তুলছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মঙ্গলবার সূর্যকান্ত মিশ্রের সভা।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।