রুশদির ভিডিও কনফারেন্স বাতিল

Update: January 24, 2012 16:37 IST

যাবতীয় জল্পনার ইতি। জয়পুর সাহিত্য সম্মেলনে শেষপর্যন্ত বাতিল হয়ে গেল সলমন রুশদির ভিডিও কনফারেন্স। রাজস্থান পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই, সলমন রুশদির ভিডিও কনফারেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে আজ বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় বংশোদ্ভুত লেখক সলমন রুশদি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্স করবেন বলে জানান জয়পুর সাহিত্য সম্মেলনের উদ্যোক্তারা। রুশদির ভিডিও কনফারেন্সের বিষয়ে রাজস্থান সরকারের থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে বলেও জানানো হয়। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে সাহিত্য সম্মেলনের প্রযোজক সঞ্জয় রায় জানান, রুশদির ভিডিও কনফারেন্সের অনুমোতি দিয়েছে রাজস্থান প্রশাসন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্সে কোনও বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে না। ভিডিও কনফারেন্স-এ রুশদি তাঁর বুকারজয়ী উপন্যাস, `মিডনাইটস চিলড্রেন` পাঠ করবেন। কিন্তু সঞ্জয়বাবুর সাংবাদিক সম্মেলনের ২ ঘণ্টার মধ্যেই রুশদির ভিডিও কনফারেন্স প্রত্যাহারের দাবিতে জয়পুর সাহিত্য সম্মেলন চত্বরে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেই দিগ্গি প্যালেসের মালিক রাম প্রতাপ সিং দিগ্গি জানিয়ে দেন, রুশদির ভিডিও কনফারেন্স তিনি করতে দেবেন না। দিগ্গি প্যালেসেই চলছে জয়পুর সাহিত্য সম্মেলন। জয়পুর সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম দিন থেকেই বিতর্কের শিরোনামে সলমন রুশদি। রাজস্থান পুলিস সূত্রে তাঁর কাছে খবর রয়েছে, মুম্বইয়ের অন্ধকার জগত তাঁকে মেরে ফেলার জন্য ভাড়াটে গুন্ডা ঠিক করেছে। নিরাপত্তার কারণেই তিনি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে যেতে পারছেন না বলে টুইটারে জানান রুশদি। নিরাপত্তার কারণে রুশদির সম্মেলনে যোগ না দেওয়ায় রুশদি বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সাহিত্য সম্মেলনের মঞ্চে হরি কুঞ্জরু, অমিতাভ কুমার-সহ ৪ লেখক রুশদির ভারতে নিষিদ্ধ বই `স্যাটানিক ভার্সেস` পাঠ বিতর্কে অনুঘটকের কাজ করে। ওই ৪ লেখক ও সম্মেলনের প্রযোজক সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করা হয়।








Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।