বিজেপি থাকায় সভামঞ্চে উঠল না কংগ্রেস

Update: December 13, 2012 11:53 IST

লোবার সভামঞ্চে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য উপস্থিত থাকায় মঞ্চেই উঠলেন না কংগ্রেস নেতারা। শমীক ভট্টাচার্য নেমে যাওয়ার পর মঞ্চে ওঠেন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান, কনক দেবনাথ ও মালা রায়।

লোবায় গুলি চালনার ঘটনার প্রতিবাদে রাণি রাসমনি রোডে অবস্থানে বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন লোবার কৃষকরা। সেখানেই এই ঘটনা। এরআগে, প্রস্তাবিত কয়লাখনির জন্য অধিগৃহীত জমির ন্যায্যমূল্য, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে হাওড়া থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেন কৃষকরা। অবস্থানের পর মহাকরণ পর্যন্ত মিছিল করবেন তাঁরা। শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হবে স্মারকলিপি।

২০০৮ থেকেই জমি নিয়ে সমস্যা চলছে লোবায়। কৃষি জমি রক্ষা কমিটি এবং জমিদাতাদের আপত্তি মূলত, ডিভিসি-এমটা কোল মাইনস লিমিটেডের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে। প্রতিবাদে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংস্থার পে লোডার আটকে রাখেন তাঁরা। শুরু হয় ধরনামঞ্চ গড়ে পালা করে যন্ত্র পাহারা দেওয়ার কাজ। ছয় নভেম্বর সেই যন্ত্র উদ্ধার করতে গিয়েই গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিসকে। পুলিস-গ্রামবাসী সংঘর্ষে মুহূর্তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ে পুলিস গুলি চালায় বলে অভিযোগ।

ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দিলেও পুলিসের গুলি চালনার কথা অস্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, পুলিসি অভিযানের বিষয়ে অন্ধকারে ছিল মহাকরণ থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সবাই। যদিও অভিযোগ ওঠে পুরো ঘটনাটিই জানতেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমনকি যন্ত্র উদ্ধারে তাঁর দফতর থেকেই তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, লোবা গ্রামে সেদিন যা ঘটেছিল তা অন্যায়। পুলিসের আরও সহিষ্ণুতা দেখানো উচিত ছিল।

৪ ডিসেম্বর লোবায় জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও পুলিসের ভূমিকার নিন্দা করে তিনি বলেন, "গুলি চালনার ঘটনা অন্যায় হয়েছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।" জমি আন্দোলনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ছিলেন না। যাননি সেদিনের ঘটনায় আহতদের পরিবারের কেউ। ফলে তাঁদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। পরে অবশ্য চেক তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। চেক নিলেও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ৪ ডিসেম্বর তাঁদের ধর্নামঞ্চকে অগ্রাহ্য করে দলীয় মঞ্চ থেকে প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পর থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেন লোবা গ্রামের কৃষকরা। অবস্থান মঞ্চ থেকে ফের একবার পুনর্বাসন এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাবেন তাঁরা। পরে মহাকরণ পর্যন্ত মিছিল করে শিল্পমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন স্মারকলিপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোবায় গিয়ে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দিয়েও লোবা-কাঁটা  সরাতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামবাসীদের অবস্থান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।