অথৈই জলে ধোনিবাহিনী!

Update: December 7, 2012 17:59 IST

ভারত- ৩১৬
ইংল্যান্ড-৫০৯/৬
ম্যাট প্রায়র-৪০
গ্রেম সয়ান-২১

নাহ! ইডেনেও জিতে ফেরা হল না ধোনিবাহিনীর। বদলার সিরিজের স্বপ্ন তো ওয়াংখেড়ের টেস্টের পরেই আরব সাগরে ভেসে গিয়েছিল। দেশের মাটিতে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জেতার স্বপ্নটারও আজ গঙ্গার জলে ভেসে গেল। কলকাতা টেস্টের তৃতীয় দিনেও ব্রিটিশদের আধিপত্য বহাল থাকল। দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ৫০৯। সপ্তম উইকেটে ইতিমধ্যেই সয়ান আর ম্যাট প্রায়র জুটি ৫০ রানের মজবুত পার্টনারশিপ তৈরি করে ফেলেছেন। তাঁদের হাভভাব দেখে মনেই হচ্ছে না তাঁরা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। অশ্বিন, ওঝারা প্রচুর হাত টাত ঘুরিয়েও ইংল্যান্ড ইনিংসে দাঁড়ি টানতে ব্যর্থ। যদিও আজ লাঞ্চের পর ভারতীয় বোলাররা তুলনামূলক কিছুটা ইতিবাচক বোলিং করলেন। ওঝার ঝুলিতে ৩টে উইকেট। অশ্বিনের শিকার এক। কুক এন্ড কোম্পানি এখনই ১৯০ রানে এগিয়ে।

অ্যালেস্টার কুকের বৃহস্পতি এখন সত্যিই তুঙ্গে। ভারতের মাটিতে তাঁর শতরানের সিলসিলাতো তিন টেস্ট ধরেই অব্যাহত। আজকেও ইডেনের ২২ গজে ভারতীয় বোলারদের নির্বিষ বোলিং নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করলেন। যদিও মাত্র ১০ রানের জন্য শতরান হাত ছাড়া হল তাঁর। তবে ক্যাপ্টেন কুকের কিন্তু তাঁর ১৯৩ রানের রাজকীয় ইনিংসের জন্য টিম ইন্ডিয়ার `অসাধারণ` ফিল্ডিংয়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সঙ্গে কুকের কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার ফিল্ডিংয়ের কাছেও দু`-দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলার দুঃসাহস দেখালেন ভারতীয় ফিল্ডাররা! এই রকম একটা ম্যাচে যেখানে হাতে সাকুল্যে ৩১৬টি রান পুঁজি, সেখানে ব্রিটিশ অধিনায়কের প্রতি ভারতীয়দের `বদান্যতার` কোন কিনারা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

লাঞ্চে টিম ইন্ডিয়ার মেনুতে প্রথমেই সম্ভবত ছিল কী ভাবে ব্রিটিশ অধিনায়ককে জলদি জলদি বিপক্ষ ড্রেসিংরুমে পাঠানো যায় তার সুলুক সন্ধান। তা না হলে ক্যাপ্টেন কুকের জাহাজ কোন রানের পাহাড়ের দিকে তাঁর দলকে টেনে নিয়ে যাবে, তার অনুমান কিছুটা হলেও বুঝতে পারছিলেন মাহিরা। দ্বিশতরানের আগেই কুকের জাহাজ থামানো গেলেও শেষ রক্ষা হল কই? কেন যে নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পেতে ভারতকেই বেছে নিলেন কেপি কে জানে! শতরান হল না ঠিকই কিন্তু ৮৫ বলে ৫৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে কাজের কাজটি করে দিয়ে গেলেন। ক্রিজে ইংরেজদের আর এক রথী প্রায়র ৪০ রানে অপরাজিত।

ইডেনের ২২গজ যে তার স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গীতে তৃতীয় দিন থেকেই চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে লাঞ্চের পর ভারতীয় বোলারদের হঠাত্ সাফল্যই তার প্রমাণ। কালকে কিন্তু ক্রিকেটের স্বর্গে ফুটিফাটা ২২গজে বলের ঘূর্ণন কয়েক গুন বৃদ্ধি পাবে। ফলে সাময়িক ভাবে ওঝা অশ্বিনদের ইংরেজ ইনিংস গুটিয়ে ফেলতে সুবিধা হলেও ভারতীয় কতটা লাভবান হবেন তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। স্পিনিং ট্র্যাকে অপরাজেয়র খেতাবটা মুম্বই টেস্টেই টিম ইন্ডিয়া খুইয়ে এসেছে। ইডেনেও প্রথম ইনিংসে তা ফিরে পাওয়ার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। জয় তো দূর অস্ত, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা এই ম্যাচে সম্মানজনক ড্রয়ের সন্ধান দিতে পারলেই যথেষ্ট। সব শেষে দুঃখ একটাই, হায় ধোনি তোমার দলে তো একটাও লক্ষণ নেই।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।