কাজ ভালবেসেই আসে সাফল্য

Update: December 3, 2012 10:37 IST

মাধবীলতা অমৃতা মিত্র। পাঁচ ফুট এগারো ইঞ্চির দীর্ঘাঙ্গী এই কৃষ্ণকলি কলকাতা র‌্যাম্প মাতিয়ে চলেছে বছরের পর বছর। কাজের প্রতি ভালবাসা, একনিষ্ঠতা আর সুমিষ্ট ব্যবহারই মাধবীলতার খ্যাতির শীর্ষে থাকার চাবিকাঠি। তবে মডেল না হলেও শীর্ষে পৌঁছতেন তিনি। পেশাদার পর্বতারোহী থেকে মডেল হয়ে ওঠার সেই গল্পোই শোনালেন আমাদের।

পরিবার ও পড়াশোনা

আমার বাড়ি ভবানীপুর। বাড়িতে মা, ভাই, দিদা সবাই আছেন। আমার দুটো ছোট কুকুরছানাও আছে। রমেশ মিত্র গার্লস হাই স্কুল থেকে পাশ করে দেশবন্ধু কলেজ থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে স্নাতক হই। তারপর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যায়লয় থেকে এম.এ।

মডেলিংয়ে আসা কীভাবে?

আমার বরাবরের ইচ্ছা ছিল মডেল হবো কিন্তু সেভাবে কোনওদিন কিছু ভাবিনি। দুহাজার ছয় সালে আমি একটা নামী সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা জিতেছিলাম। তারপর থেকেই কাজ করছি। ভগবানের কৃপা আর বাকি সকলের আশীর্বাদে আমার জীবনটাই বদলে গেছে।

মডেল না হলে কী করতেন?

মডেল না হলে আমি একজন পর্বতারোহী হতাম। আমি এইচএমআই দার্জিলিংয়ে মাউন্টেনিয়রিং ইন্সট্রাক্টর ছিলাম। এখনও মাঝে মাঝে ছুটি পেলে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে যাই। সিকিমেই বেশিরভাগ সময় ট্রেকিংয়ে যাই।

মডেলিং ও বাড়ি

আমার মডেলিংয়ে আসা নিয়ে বাড়ি থেকে কোনও সমস্যাই হয়নি। আমি জীবনে যাই করেছি আমার পরিবার সবসময়ই আমার ওপর আস্থা রেখেছে। কোনওদিন কোনও
এখনও পর্যন্ত জীবনের সেরা কাজ

আমি মনে করি আমি একটা ছোট কাজ করি বা বড় কাজ করি, যেইসময় আমি সেই কাজটা করছি, সেইমুহূর্তের জন্য সেটাই আমার কাছে সেরা কাজ হয়। আমি আজ যেটা করছি, আগামিকাল যেটা করব বা গতকাল যেটা করেছিলাম, প্রত্যেকটা কাজই আমার কাছে খুব প্রিয়। আমার কাজটাকে আমি এতোটাই ভালবাসি যে কাজের প্রত্যেকটা মুহূর্তই আমি খুব এনজয় করি।

টানা এতোদিন ধরে আপনি কলকাতার এক নম্বর মডেল। এই সাফল্য ধরে রাখার পিছনে কোন বিষয়টা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আপনি?

আমি আমার কাজটাকে ভালবাসি। এটাই সবথেকে বড় ব্যাপার। এছাড়া আপনাদের সকলের ভালবাসা, ভগবানের আশীর্বাদ আমাকে এতোদিন এই জায়গায় রেখেছে।

অভিনয়ে আসার ইচ্ছা আছে?

ভাবিনি এখনও পর্যন্ত। ভাল সুযোগ পেলে দেখা যাবে।

কখনও ন্যাশানাল লেভেলের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছা হয়নি?


আমার গ্রুমিং এক্সপার্ট অনিকেত চ্যাটার্জির কাছে শুনেছিলাম যে পেশাদার মডেল হতে গেলে প্রতিযোগিতা জেতার থেকে মনযোগ দিয়ে কাজ করাটা অনেক বেশি জরুরি। তখন থেকেই আমি এটা বুঝে গিয়েছিলাম যে মন দিয়ে কাজ করাটাই সবথেকে আগে দরকার।

এখন নতুন যারা মডেলিংয়ে আসতে চায় তাঁদেরকে আপনি কীভাবে গাইড করবেন?

আমি তাদরকে শুধু একটা কথাই বলব যে সবার আগে নিজের কাজটা ভালবাসতে হবে। আমাকে লোকে চিনবে শুধু এটা ভেবে কাজ করতে এলে সাফল্য কোনওদিন আসবে না। যে কোনও পেশাতেই সাফল্য পেতে গেলে কাজকে পাগলের মতো ভালবাসতে হবে। প্রত্যেকের সঙ্গে ভাল ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে। যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি তাদের প্রত্যেকের সহানুভূতি, আশীর্বাদ, ভালবাসা অসম্ভব দরকার।

আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট

যেটাতে আমি কমফর্টেবল সেরকম পোষাকই সবসময় পরা উচিত। লোক দেখানোর জন্য কখনই সাজা উচিত নয়। যেটা পরে আমাকে ভাল লাগবে, পাঁচটা লোক আমাকে দেখে ইম্প্রেসড হবে সেরকম সোজগোজই সবসময় করা উচিত। কখনই অশোভন কিছু পরা উচিত নয়। মেটিরিয়ালের ক্ষেত্রে আমি আমাদের দেশীয় ফ্র্যাব্রিকের পোষাক পরাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে ভালবাসি।

উত্সবের মরসুম কীভাবে কাটালেন?

পরিবার, বন্ধুবান্ধব সকলের সঙ্গে খুব মজা করে কাটিয়েছি। কাজের জন্য বাড়ির লোকেদের সঙ্গে সময় কাটাতেই পারি না আমরা। যাদের জন্য আমাদের সবকিছু, যাদের জন্য আমরা সেই পরিবারের সঙ্গে পুজো কাটাতেই আমার ভাল লাগে। পুজোয় দেশীয় পোষাক মানে শাড়ি, সালওয়ার কামিজ পরে, দেশীয় খাবার খেয়ে কাটাতেই আমি ভালবাসি।

এইবছর শীতকাল কীভাবে কাটাবেন?

এখন নভেম্বর থেকে আমার কাজের সিজন শুরু হয়েছে। সারা শীতকাল খুব মন দিয়ে কাজ করতে হবে আমাকে। তারমধ্যেই ইচ্ছা আছে একবার সিকিম ঘুরে আসার। যদি কাজের থেকে কিছুদিনের ছুটি পাই তাহলেই টুক করে সিকিমটা বেরিয়ে আসব।












Post Your Comment

Total Comments:1

u r good looking n good talker

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।