২৪ ঘণ্টার খবরের জের, বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

Update: August 30, 2012 22:09 IST

চব্বিশ ঘন্টার খবরের জেরে অবশেষে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনের বয়স কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এবছর হঠাত্ই রেজিষ্ট্রেশনের বয়স তিন মাস কমিয়ে দেয় পর্ষদ। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীর ২০১৪ সালের মাধ্যমিকে বসা। বুধবার এই খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিল পর্ষদ। পুরোনো নিয়মেই রেজিষ্ট্রেশন হবে বলে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে পর্ষদের পক্ষ থেকে। 

৩০ এপ্রিল ১৯৯৯-এর পর যারা জন্মেছে তারা এবছর নবম শ্রেনীতে রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম ফিল আপ করতে পারবে না। এবছর বিভিন্ন স্কুলে এমনই নির্দেশ পাঠায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু অন্যান্য বছর এই সময়সীমা নির্দিষ্ট বছরের ৩১শে জুলাই দেওয়া থাকে। এমনকি গত বছর তা বাড়িয়ে ৩১শে অক্টোবর করা হয়েছিল। হঠাত্ এভাবে বয়স চারমাস কমিয়ে দেওয়ায়, এখন যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তেমন কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীর  ২০১৪ সালের মাধ্যমিকে বসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কারণ নবছর আগে পুরোনো নিয়মের ভিত্তিতেই তারা প্রথম শ্রেনিতে ভর্তি হয়েছিল। পর্ষদের যুক্তি ছিল যেহেতু এবছর শিক্ষাবর্ষ মে মাস থেকে পিছিয়ে জানুয়ারিতে চলে এসেছে সেহেতু রেজিষ্ট্রেশনের বয়সও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নবছর আগে যারা প্রথম শ্রেনিতে ভর্তি হয়েছিল তাদের ওপর কেন এই নতুন নিয়ম চাপবে? বুধবার এই খবর সম্প্রচারের পরেই তড়িঘড়ি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

কিন্তু কেন ঘটল এই ঘটনা? পর্ষদ সূত্রে খবর, চূড়ান্ত গাফিলতিতেই এমনটা ঘটেছে। কি সেই গাফিলতি ? সরকার রেজিষ্ট্রেশনের বয়স সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল নতুন নিয়ম ২০১৩তে যারা প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি হবে, তাদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারির সময় পর্ষদের আধিকারিকরা কাদের জন্য এই নির্দেশিকা তা না দেখেই এবছর থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে স্কুলগুলিকে জানিয়ে দেয়। আর এই  গাফিলতির ফলেই প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয় কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীকে।

Post Your Comment

Total Comments:1

thank u 24 ghanta,,,,,,,,

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।