প্রণবের চিঠি ঘিরে টানাপোড়েনের জের, ইউপিএ-র নৈশভোজ বয়কট মমতার

Update: July 13, 2012 20:07 IST

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ল। আগামী ১৮ জুলাইয়ের ইউপিএ-র নৈশভোজের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনিয়া গান্ধীর তরফে আহমেদ প্যাটেল টেলিফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু ইউপিএ-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল তারা ওই নৈশভোজে যোগ দিতে পারবে না।

রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দুই শরিকের দ্বন্দ্ব যখন তীব্র, তখন সঙ্গত কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার অন্য মাত্রা পাচ্ছে। শুধু রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন করাই নয়, উপরাষ্ট্রপতি পদে হামিদ আনসারিকেও সমর্থনের পক্ষপাতী নয় তৃণমূল। উপরাষ্ট্রপতি পদে তাদের পছন্দ গোপালকৃষ্ণ গান্ধী অথবা কৃষ্ণা বসু। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত মাথাচাড়া দিয়েছে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও। বৃহস্পতিবার প্রণব মুখার্জির তরফে দেশের সমস্ত সাংসদের কাছে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানোর ঘটনা এই তৃমমূল নেত্রীর এই নৈশভোজ বয়কটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


সব দলের মতো সেই চিঠি এসে পৌঁছেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের হাতেও। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন প্রণব মুখার্জির চিঠিকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে না তৃণমূল শিবির। বরং তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখার্জির নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে শরিকি টানাপোড়েন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে না তাঁর দল। কংগ্রেসের তরফ থেকে চেষ্টা চালিয়ে চলছে বড় শরিকের সঙ্গে দুরত্ব মেটানোর।

সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই দুই শরিকের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগতে শুরু করে কংগ্রেস। কলকাতায় যখন কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রণব মুখোপাধ্যায় তখন তৃণমূল শিবিরের প্রতি সুর চড়া রেখেছিলেন ইউপিএর রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। সাংবাদিক বৈঠকে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলতে প্রস্তুত হলে তবেই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলবেন।

কলকাতা সফরের সময়ই ঘনিষ্ঠ মহলে প্রণববাবু ইঙ্গিত দেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে চিঠি পাঠাবেন তৃণমূল শিবিরে। মনে করা হচ্ছে, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিন্ন করার আগে কংগ্রেসের মুশকিল আসান প্রণব মুখোপাধ্যায় তৃণমূলকে জয় করার শেষ চেষ্টা করছেন। হাজারো টানাপোড়েনের পরেও কংগ্রেস এখনই তার অন্যতম বড় শরিক তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে চাইছে না। কারণ ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের আগে ইউপিএ শিবিরে ফাটল ধরেছে এমন বার্তা যাতে না পৌঁছয় তা নিশ্চিত করতে সর্তক পদক্ষেপ নিচ্ছে কংগ্রেস।


বুধবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে উপরাষ্ট্রপতি সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চান। উপরাষ্ট্রপতি পদে হামিদ আনসারিকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আপত্তি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন। তবে আগামী ১৪ জুলাই ইউপিএ শরিকদের বৈঠকে তৃণমূল যোগ দেবে বলে জানানো হয়েছে দলের তরফে। প্রধানমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন ওই বৈঠকে তৃণমূলের তরফে মুকুল রায় যোগ দেবেন।

কিন্তু এর পরই আবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন অর্থাত্‍ ১৮ জুলাইয়ের নৈশভোজ বয়কট করে গোটা বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর দলের কোনও প্রতিনিধিই প্রণববাবুর সমর্থনে আয়োজিত ওই নৈশভোজে হাজির থাকবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরত থাকার আগাম ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ইউপিএ-র নৈশভোজ বয়কট করলেও কোনো অবস্থাতেই তিনি রাষ্ট্রপতি ভোটে এনডিএ সমর্থিত প্রার্থী পূর্ণ সাংমাকে সমর্থন করবেন না বলে নিশ্চিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


Post Your Comment

Total Comments:2

It is Mamata Bandopadhyay(Banerjee), the most destructive and dangerous woman in Indian Politics.Beware, Beware.

Mamata ke na daklei beshi bhalo hoto.............

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।