মমতার অনাস্থায় সংখ্যার অভাব পরিষ্কার

Update: November 19, 2012 16:14 IST

অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূলের ঘোষণার পর ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে সংসদের সমীকরণ? রাজনৈতিকমহলে আপাতত সেই জল্পনাই তুঙ্গে। সাধারণভাবে ৫০জন সাংসদের সমর্থন ছাড়া অনাস্থা আনা সম্ভব নয় লোকসভায়। কিন্তু তবুও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমর্থন আদায়ের জন্যে ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছে তাঁর। কথা চলছে এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার সঙ্গেও। দেখে নেব সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এই মূহুর্তে কে কোথায় দাঁড়িয়ে।

এফডিআই ইস্যুতে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনলে এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে রয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯জন। সমর্থন পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপির ১১৪ সাংসদের। তৃণমূলের অনাস্থা প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন জয়ললিতা। সেক্ষেত্রে মিলবে এআইএডিএমকের ৯ জনের সমর্থন। অর্থাত্‍, এই মুহুর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেতে পারেন ১৪২ জন সংসদের সমর্থন।
 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনাস্থার বিরোধিতার ছবিটা কেমন? অনাস্থার বিরোধিতায় নিশ্চিত ভোট কংগ্রেসের ২০৩ জন, এনসিপির ৯ জন, আরজেডির ৪ জন সাংসদের। সরকার সঙ্কটে পড়লে ইতিমধ্যেই সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে রেখেন উত্তর প্রদেশের দুই নেতা-নেত্রী মুলায়ম সিং এবং মায়াবতী। সেক্ষেত্রে বিএসপির ২১ জন এবং এসপির ২২ জন সাংসদের সাংসদের সমর্থনও পাবে মনমোহন সরকার। সবমিলিয়ে সরকারের পাশে রয়েছে ২৫৯ সাংসদের ভোট।
 
এছাড়া উল্লেখযোগ্য সাংসদ রয়েছে চার বামদলের। ২৩ জন। তারা ইতিমধ্যেই এফডিআই ইস্যুতে সংসদে আলোচনা ও ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছে। এর বাইরে বড় সংখ্যক সাংসদ রয়েছে নীতিশ কুমারের জেডিইউয়ের। ২০ জন। এফডিআই ইস্যুতে দলীয় অবস্থান নিয়ে জেডিইউয়ের দুই শীর্ষ নেতা শরদ যাদব এবং নীতীশ কুমারের ভিন্ন মত রয়েছে। স্বভাবতই তাদের অবস্থান কী হবে তা পরিষ্কার নয়।
 
সংসদ-সমীকরণের বাইরে যে রাজনৈতিক প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তা হল তৃণমূল কংগ্রেস- বিজেপির নতুন করে তৈরি হওয়া সম্পর্ক। ৫০ জন সাংসদ না থাকার কারণে অনাস্থা প্রস্তাব তুলতে তৃণমূলনেত্রী বিজেপির সাহায্য চাইছেন। প্রশ্ন উঠছে যদি বিজেপি একই ইস্যুতে অনাস্থা প্রস্তাব আনে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করবেন কী?
 

Post Your Comment

Total Comments:3

why cant she concentrate on west bengal

AMAR BOLAR KICHOO CHILO NA

Desh bikiye jaak... Cong..CPM.. sab eksathe.......Didi eka deshtake bachate parbena....

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।