এনসিটিসি নিয়ে নরম মমতা, ইঙ্গিত দিলেন শিন্ডে

Update: February 25, 2013 18:26 IST

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এনসিটিসি নিয়ে অবশেষে কি জট কাটতে চলেছে? আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের বক্তব্য থেকে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। বকখালিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত, এনসিটিসি ইস্যুতে সুর নরম করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উস্কে দিলেন তৃণমূলের প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ডের অবস্থান নিয়ে জল্পনা।

তবে অনান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এনসিটিসি নিয়ে আপত্তি জানানোয় এখনও জট কাটেনি এই কেন্দ্রের এই প্রকল্পের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনসিটিসি সংক্রান্ত দু-একটি বিষয়ে আলোচনা চান বলে জানিয়েছেন শিন্ডে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, এ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ সরাসরি এড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বামেদের মতো প্রদেশ কংগ্রেসও সরব রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। রবিবারই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শিন্ডের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ কার্যত এড়িয়েই গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসও দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ইউ-টার্ন। সোমবার বকখালিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে উপেক্ষিতই থেকে গেল প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি গুলো।

কেন্দ্র প্রস্তাবিত এনসিটিসি গঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশে পেয়েছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। কিন্তু সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দিলেন, এনসিটিসি ইস্যুতে অনড় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইউপিএ ছাড়ার পর শুধু কেন্দ্রের বিরোধিতাই নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তিক্ততার কোনও রেশই ছিল না সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছেন। 

তবে কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে? নাকি এনসিটিসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতি আদায় করতেই কেন্দ্রের এই কৌশল।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।