ছত্রিসগড়ে কংগ্রেস কনভয়ে মাওবাদী হামলা, নিহত ২৪

Last Updated: Sunday, May 26, 2013 - 09:19

ছত্তিসগড়ের বস্তার জেলার দরভাঘাটে কংগ্রেস নেতাদের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালালো মাওবাদীরা। ল্যান্ডমাইন, বন্দুক নিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি দল হামলা চালায়। নিহত হয়েছেন কংগ্রেস নেতা মহেন্দ্র কর্মা। মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের আরও দুই কংগ্রেস নেতার। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লা। উদ্ধার হয়েছে বস্তার জেলার কংগ্রেস সভাপতি নন্দ কুমার প্যাটেল ও তাঁর ছেলের মৃতদেহ। এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০জন। 
এ বছরের শেষের দিকে ছত্তিসগড়ে বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেস। বিজেপি শুরু করেছে বিকাশ যাত্রা। পাল্টা পরিবর্তন যাত্রায় নেমেছে কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে এই পরিবর্তন যাত্রা সেরেই ফিরছিলেন কংগ্রেস নেতারা।
বস্তারের জেলা সদর জগদলপুর থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল ঘেরা দরভাঘাট এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর তাঁদের কনভয়ে হামলা চালায় মাওবাদীরা। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। চারশো থেকে পাঁচশো সন্দেহভাজন মাওবাদীর দল নির্বিচারে গুলি চালায়।
ঘটনাস্থলেই মারা যান কংগ্রেস নেতা মহেন্দ্র কর্মা ও উদয় মুদালিয়র। হাসপাতালে মৃত্যু হয় রাজ্যের আরেক কংগ্রেস নেতা গোপী ওয়াদবানির।
ছত্তিসগড়ে মাওবাদী বিরোধী আন্দোলনের রূপকার ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। নব্বইয়ের দশকে তাঁর হাত ধরেই কাজ শুরু করে জনজাগরণ মঞ্চ। পরে, বহু বিতর্কিত ও সমালোচিত সালওয়া জুড়ুমও শুরু করেন তিনিই। যদিও, পরে সেই আন্দোলনের রাশ হাতে নিয়ে নেয় বিজেপি।
দীর্ঘদিন মন্ত্রী, বিধায়ক থাকার পর দুহাজার আটে বিধানসভা ভোটে হেরে যান মহেন্দ্র কর্মা। যদিও, তাঁর প্রভাব ছিল আগের মতোই অটুট। বহুদিন ধরেই মাওবাদীদের হিট লিস্টে ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা।
এর আগে, একাধিকবার আক্রমণের শিকার হলেও বেঁচে যান তিনি। এ বার আর শেষরক্ষা হল না। 
কিষেণজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কোণঠাসা মাওবাদীরা। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল এলাকা বা মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলির মতো শক্ত ঘাঁটিতেও ইদানিংকালে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তারা। তবে, ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে যে তাঁদের প্রভাব এখনও অটুট, শনিবারের ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
 
 
  



First Published: Sunday, May 26, 2013 - 23:22


comments powered by Disqus