দিল্লিতে ফিরলেন দুই ইতালীয় নাবিক

Update: March 22, 2013 08:55 IST

দিল্লিতে ফিরল ভারতীয় মৎস্যজীবী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ইতালীয় নাবিক। ওই দুই অভিযুক্তদের ভারতে ফেরানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশকিছু নাটকীয় পর্ব চলে দু'দেশের মধ্যে। ২২ তারিখ পর্যন্ত তাঁদের ভারতে ফেরার সময়সীমা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

দুই ইতালীয় নাগরিককে ভারতে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুর নরম করে ভারতও। আজ ভারত সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুনের মামলায় অভিযুক্ত নাবিকদের মৃত্যুদণ্ড কিংবা গ্রেফতারীর মতো সাজা দেওয়া হবে না। ইতালির সিদ্ধান্তের কিছু পরেই মধ্যে সংসদে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ। এ দিন তিনি জানিয়েছেন ভারত আশ্বস্ত করেছে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কঠিন সাজার বিষয়টিই ইতালীয় প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের বিষয় ছিল।

লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই মন্তব্য করার সময় স্বভাবতই খুশি ছিলেন খুরশিদ। নাবিকদের ফিরে আসায় শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতোই তদন্তের অগ্রগতি হবে জানান তিনি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই ইতালির পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা এমনই।

আজই দু নাবিক নয়াদিল্লিতে পৌঁছোবেন। ইতালির বিদেশমন্ত্রক সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। দুই নাবিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারগুলি রক্ষা করা হবে। নয়াদিল্লির তরফে লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই দুই নাবিক মাসিমিলিয়ানো লাতোর এবং স্যালভাতোর জিরোনিকে ভারতে পাঠানোর ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও মন্টি।

সূত্রে খবর ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিও ন্যাপলিটানোও অভিযুক্ত দুই নাবিকের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলেন এবং তাঁদেরকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।

বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন নয়াদিল্লির ইতালিয় দূতাবাসেই থাকবেন দুই অভিযুক্ত নাবিক। ইতালির সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ওই দুই নাবিককে দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে তাঁদের মার্চ মাসের বাইশ তারিখের মধ্যে ফিরে আসারও নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু পরে বেঁকে বসে ইতালি। দুই নাবিকের প্রত্যর্পণ নিয়ে কথার খেলাপ করায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্তসনার মুখে পড়লেন ভারতে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ম্যানচিনি।






Post Your Comment

Total Comments:2

Bongaon ...batar more a path aborodh.student der ovijog miss beheave korechhe teacher Ra.

India have to take strong decision in this mater.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।