আজ মোহনবাগানের ভাগ্য নির্ধারণ

Update: December 27, 2012 12:57 IST

কলকাতার ডার্বি বিতর্ক নিয়ে আজ রায় দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলি। রায়ের কপি হাতে পেয়ে ফেডারেশন সচিব এবং সভাপতি আলোচনা করে মোহনবাগানের ভাগ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সোমবার নয়া দিল্লিতে ডার্বি কাণ্ডের শুনানি হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা চলা এই শুনানির প্রথম দিকে মূলত ম্যাচের গণ্ডগোলের ভিডিও দেখেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলি। তারপর মোহনবাগান এবং ফেডারেশন, দুই পক্ষেরই বক্তব্য শোনেন বিচারপতি। মোহনবাগানের বক্তব্য ছিল ডার্বি ম্যাচের দিন মাঠে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। গ্যালারি থেকে ছোঁড়া ঢিলে তাঁদের এক ফুটবলার আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন। এই অবস্থায় দল তুলে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না তাঁদের কাছে। এব্যাপারে ফিফার সংবিধানও উদ্ধৃত করেন তাঁরা।

মোহনবাগানের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, আয়োজক দল হিসাবে সেদিন মাঠে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব ছিল ইস্টবেঙ্গলের। তারা এব্যাপারে পুরোপুরি ব্যর্থ। ফলে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার দায় তাদের। ফেডারেশনের তরফ থেকে আবার ম্যাচের ফুটেজ দেখিয়ে বলা হয় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিরতির পর নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তাছাড়া ওই মাঠেই মোহনবাগান চারটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই আয়োজন করে ফেলেছে। ফলে মাঠের পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগ জানানো তাঁদের সাজে না। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা বিরতির পর যদি মাঠে নামতে পারেন, মাঠ প্রদক্ষিণ করে যদি দর্শকদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন তাহলে মোহনবাগান ফুটবলাররা কেন নামলেন না, সেই প্রশ্ন তোলেন ফেডারেশনের আইনজীবীরা। দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি গাঙ্গুলি জানিয়ে দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি তাঁর রায় জানিয়ে দেবেন। তাঁর রায়ে যদি মোহনবাগান দোষি সাবস্ত্য হয় তাহলে তাঁদের আগামী দুবছর পর্যন্ত নির্বাসিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোহনবাগানের তরফ থেকে শনিবার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সচিব অঞ্জন মিত্র, অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত। মোহনবাগানের পক্ষে আইনজীবি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গীতানাথ গাঙ্গুলি, সৌরভ গাঙ্গুলি, সৌম্য চক্রবর্তি। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ছিলেন ঊষানাথ ব্যানার্জি, জয়দীপ কর, বিল্লোদল ভট্টাচার্য। তবে শুনানিতে ফেডারেশনের কোনও কর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

Post Your Comment

Total Comments:1

Amar mote bole mohun bagan jodi akta bhul kore thake tahole kono na kono somoy tara bhalo kaj nischoy koreche.mohunbagan is a history cal football team in kolkata(india). Bangalar kache 1.mohunbangan 2.eastbengal ai duti team-er darvi te somorthok bese hoy. jodi mohunbagan 2year er jonno suspends hoy tahole mathe tan tan uttajona&1-1`50 lakh somorthok er bher hobyna.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।