সালগাঁওকরকে হারিয়ে আই লিগের খেতাবি দৌড় শুরু মোহনবাগানের

Update: November 17, 2012 16:46 IST

মোহনবাগান (৩) সালগাওকর (০) করিম বেঞ্চারিফা আসার আগের দিনই কোচ মৃদুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে আইলিগে অস্বস্তির মেঘ কাটিয়ে স্বস্তির ঝলমলে আলোয় মোহনবাগান। সালগাঁওকরের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়। নবনিযুক্ত কোচ ডেভিড বুথের স্ট্র্যাটেজি হার মানল বাঙালি কোচ মৃদুলের ট্যাকটিক্সের কাছে। মূলত দুটি উইংকে সচল রেখে লুসিয়ানোদের ব্যস্ত রেখে বাজিমাত করেন মৃদুল।  কাশ্যপ জমানার জড়তা মৃদুলের সময় থেকেই উধাও। মাত্র চার মিনিটে ডেনসন দেবদাসের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ১৯ মিনিটে আবার মোহনবাগানের ব্যবধান বাড়ান ওডাফা। সালগাঁওকর তখন দিশেহারা। বুথের দলের পাসিং ফুটবল তখন সুপারফ্লপ। রুনি-গিলবার্তোরা তখন ঠিক পাস দিতেই ভুলে গিয়েছে । প্রথমার্ধে দুই-শূন্য পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে যখন সালগাঁওকর খেলা ধরতে সবে শুরু করেছে,তখন আবার গোল। এবার স্ট্যানলি। ৬ ১ মিনিটে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর কামব্যাকের কোনও সুযোগ ছিলনা বুথের দলের ছন্নছাড়া ফুটবলের। প্রাক্তন দলের হার দেখলেন করিম। রাত  পোহালেই যে দলের কোচ হবেন,সেই মোহনবাগানকে দেখে মনে মনে হয়ত আশ্বস্ত হলেন করিম। আই লিগের ঝুলিতে ছিল শূন্য পয়েন্ট। সেই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন মৃদুল। ছয় ম্যাচ শেষে দশ পয়েন্ট ঝুলিতে রেখে রবিবারই করিমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন মৃদুল বন্দ্যোপাধ্যায়। দায়িত্ব নেবেন সহকারী হিসেবে।
আই লিগে স্বপ্নের কামব্যাক করল মোহনবাগান। গত একমাসে মোহনবাগান দলটাই যেন একেবারে বদলে গেছে। সালগাঁওকরকে ঘরের মাঠে তিন গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ম্যাচের সেরা নবি বলছেন, ফুটবলারদের তাগিদের জন্যই এই সাফল্য। ম্যাচ শেষের পর বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাল কোচ মৃদুল ব্যানার্জিকে। আই লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মৃদুল সব কৃতিত্ব দিচ্ছেন ফুটবলাররা। আগামী তিনটে অ্যাওয়ে ম্যাচে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে নবি,ডেনসনদের কাছে।
 সন্তোষ কাশ্যপের বিদায়ের পর যখন করিম বেঞ্চারিফাকে কোচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোহনবাগান, তখন করিমের বাগানে অন্তর্ভুক্তি আটকে ছিল চুক্তি জটে। বাধ্য হয়েই কটা দিন সালগাওকরের কোচ থাকতে হয়েছিল করিমকে। তখন করিম সহকারি কোচ মৃদুলের হাত ধরে বলে গেছিলেন," আমার কাজটা একটু সহজ করে দাও প্লিজ।"মৃদুল আশ্বাস দিয়েছিলেন দলকে খেতাবি দৌড়ে নিয়ে যাবেন। তখন অনেকই কথাটা বিশ্বাস করেন নি। আর আজ সেটাই করে দেখালেন মৃদুল। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বাগান এখন স্বপ্ন দেখছে। যে স্বপ্ন দেখার ঘুমটা ধরালেন। সেই ঘুমে সুন্দর স্বপ্ন দেখানোর দায়িত্বটা করিমের।
মোহনবাগান:
শিল্টন পাল, নির্মল ছেত্রী, আইবর, ইচে (মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু) , বিশ্বজিৎ সাহা (মণীশ ভার্গব), স্ট্যানলি, রহিম নবি, ডেনসন দেবদাস, জুয়েল রাজা, স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, ওডাফা ওকোলি।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।