রাজ্য অতিরিক্ত বিদ্যুত টেনে নেওয়ায় ঘটেছিল বিপর্যয়: মইলি

Update: August 19, 2012 09:39 IST

গ্রিড বিকল ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুত মন্ত্রী বীরাপ্পা মইলি। গ্রিড বিকলের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, আগামিদিনে গ্রিড বিকলের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে, তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুত মন্ত্রকের বক্তব্য ছিল, কয়েকটি রাজ্য প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুত টেনে নেওয়ার জেরেই ঘটেছিল বিপর্যয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুতমন্ত্রী।

নর্দার্ন এবং ইস্টার্ন পাওয়ার গ্রিড বিকল হওয়ার ঘটনায় গোটা উত্তরভারত ব্যাপক বিদ্যুত্‍ বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ সংকটেপড়তে হয় সরকারকে। এই ধরণের পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সাদার্ন এশিয়ান গ্রিড তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে প্রতি বছরই দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। আগামী ২১ অগাস্ট বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠকে এই নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

দেশে বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদনের ঘাটতি মেটাতে এবার বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্র। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের যোগান দেওয়াটাই সংকটে ফেলেছে সরকারকে। কয়লার যোগান কম হওয়ায় বিদ্যুত্ উত্‍‍পাদনেও দেখা দিচ্ছে বড় ঘাটতি। ভাল গুণমানের কয়লার জন্য বিদেশ থেকেই কয়লা আমদানি করার কথা ভাবতে হচ্ছে সরকারকে। অষ্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য কথাও শুরু করেছে কেন্দ্র। এই বছরেই ভারত সফরে আসছেন অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী। নর্দান ও ইস্টার্ন পাওয়ার গ্রিড বিকল হয়ে পড়ায় সম্প্রতি ব্যাপক বিদ্যুত্‍ বির্পযয়ের কবলে পড়েছিল গোটা উত্তর ভারত। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রতিবেশী দেশের সাহায্যে সাদার্ন এশিয়ান পাওয়ার গ্রিড তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। ভুটান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কথাও হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের। সার্দান এশিয়ান গ্রিড তৈরি হলে জাপান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো বিদ্যুত্‍ উত্‍‍পদনে ভারতও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে বলে আশা করছে বিদেশ মন্ত্রক।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।