গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে দায়িত্ব মুকুলকে

Update: November 30, 2012 14:22 IST

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সংগঠনকে আরও জোরদার করতে মুকুল রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ সকালে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে জেলার সাংসদ-বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতিদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে জেলার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যাতে কোনওভাবেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্যই মুকুল রায়কে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখার জন্যও বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যালঘু উন্নয়নে বসিরহাট মহকুমায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রচারে নিয়ে আসারও পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

এই বৈঠকেই দলত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কার্যত স্বীকার করে নিলেন  মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রণবতা রুখতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, মিঁনাখা, সন্দেশখালি, দেগঙ্গায় বহু সংখ্যক কর্মী তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। এদের অধিকাংশই সিপিআইএম ও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।

উত্তর ২৪ পরগনার সাংসদ-বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত ভোটের আগে দল ছাড়ার এই প্রবণতা রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কেন দল ছাড়ার ঘটনা ঘটছে তা খুঁজে বার করার পাশাপাশি সমস্যা মেটানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে মুকুল রায়কে বাড়তি দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।