"লস্কর, হক্কানিদের দিয়ে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান"

Update: September 30, 2011 21:53 IST

লস্কর এ তৈবা এবং হক্কানি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার করছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা। আর, সেনা প্রধান আশফাক পরভেজ কিয়ানি পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। পাক সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগলেন মার্কিন সেনাকর্তা মাইক মুলেন। তাঁর অভিযোগ, অর্থ ও আশ্রয় দিয়ে হক্কানি গোষ্ঠীকে অবাধ কাজকর্মের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। কিয়ানি-কে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বলেও চিহ্নিত করেছেন মুলেন। ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হচ্ছে। হক্কানি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের কথা তুলে আগেই বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন মাইক মুলেন। পাকিস্তানের তরফ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসায় উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী হয় মার্কিন বিদেশ দফতর। এসবের মধ্যেই ফের তোপ দাগলেন আমেরিকার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান। গত আড়াই বছরে প্রায় তিরিশ বার পাক সেনা প্রধান কিয়ানির সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। আমেরিকার ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মুলেন বলেছেন, কিয়ানিই পাকিস্তানে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। সেনাপ্রধানকে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী বলে মন্তব্য করে একদিকে তিনি পাকিস্তানের ব্যর্থ গণতন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগ করেছেন, নিজের স্বার্থে লস্কর ও হক্কানি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার করে চলেছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সরকারি বাহিনীর পক্ষে যা সবসময় করা যায় না, সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্যে তাই-ই করতে চাইছে পাকিস্তান। আর সেকথা দুহাজার আটেই তিনি পাকিস্তানের সেনা আধিকারিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বলেছিলেন বলে জানান মুলেন। কাশ্মীর সমস্যার দিকে নজর ঘোরাতেই লস্করের জন্ম হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাক সেনা প্রধান কি ভারতের সঙ্গে শান্তি চান। প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেয়ে বিদায়ী মার্কিন সেনাকর্তার মন্তব্য, কিয়ানি তাঁর দেশের পূর্ব ও পশ্চিম দুই সীমান্তকেই সুরক্ষিত রাখতে চান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাশ্মীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলেও রেডিও সাক্ষাত্কারে মন্তব্য
করেছেন তিনি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।