নিজেকে নিঃস্ব করে সারমেয় সংসারে মন ঢাললেন মনোজ!

১৫ বছর ধরে রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকানটাই তাঁর রোজগারের একমাত্র উপায়। ছেঁড়া, ফাটা, পুরনো জুতো সেলাই করে যা দুটো পয়সা আয় হয় তা দিয়েই দিন আনি-দিন খাই সংসারটা চালাতে হয় মুম্বইয়ের নেরুল এলাকার বাসিন্দা মনোজ পুর্ভের। যত্‍সামান্য আয়ের মাধ্যমেই সংসার চলে। আর তা চালাতে গিয়ে আজ পর্যন্ত একটি টাকাও ধার করতে হয়নি। অথচ, 'তাদের' জন্য আজ তিনি ঋণে ডুবে রয়েছেন। প্রতি মাসে রীতিমতো হাত পেতে টাকা নিয়ে সেই ঋণ শোধ করতে হচ্ছে মাঝবয়সী এই মানুষটির। তবুও 'তাদের' কাছ ছাড়া করার কথা ভাবতেই পারবেন না মনোজ।

Updated By: Jan 27, 2017, 03:08 PM IST
নিজেকে নিঃস্ব করে সারমেয় সংসারে মন ঢাললেন মনোজ!
ছবি সৌজন্য : ফেসবুক

ওয়েব ডেস্ক : ১৫ বছর ধরে রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকানটাই তাঁর রোজগারের একমাত্র উপায়। ছেঁড়া, ফাটা, পুরনো জুতো সেলাই করে যা দুটো পয়সা আয় হয় তা দিয়েই দিন আনি-দিন খাই সংসারটা চালাতে হয় মুম্বইয়ের নেরুল এলাকার বাসিন্দা মনোজ পুর্ভের। যত্‍সামান্য আয়ের মাধ্যমেই সংসার চলে। আর তা চালাতে গিয়ে আজ পর্যন্ত একটি টাকাও ধার করতে হয়নি। অথচ, 'তাদের' জন্য আজ তিনি ঋণে ডুবে রয়েছেন। প্রতি মাসে রীতিমতো হাত পেতে টাকা নিয়ে সেই ঋণ শোধ করতে হচ্ছে মাঝবয়সী এই মানুষটির। তবুও 'তাদের' কাছ ছাড়া করার কথা ভাবতেই পারবেন না মনোজ।

কিন্তু কাদের জন্য মনোজের এমন দশা?

আসলে মনোজের দোকানকে ঘিরে নিশ্চিন্তে বাস একটি পরিবারের। সারমেয় পরিবার। আর সেই পরিবারের সদস্য সংখ্যা এখন ১৫। দিনে দিনে ফুলেফেঁপে উঠছে পরিবারটি।

আরও পড়ুন- প্রেমের কোন জেন্ডার নেই, সমাজকে হারিয়ে প্রেমে জিতলেন এক হিজড়ে

বছর কয়েক আগের ঘটনা। একদল মদ্যপ যুবক গণেশ পুজোর বিসর্জনের দিন মত্ত অবস্থায় 'মতি'র চোখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে। শরীরেও সেই অ্যাসিড ছিটকে পড়ে। গোটা ঘটনাটির সাক্ষী মনোজ। যন্ত্রণায় কাতর ওই অবলা জীবটিকে দেখে সেদিন আর স্থির থাকতে পারেননি তিনি। সঙ্গে নিয়ে ছুটেছিলেন পশু হাসপাতালে। সেই শুরু। ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন 'মতি'কে। দৃষ্টি ফিরে পায়নি মোতি। কিন্তু, মনোজের সেবায় সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা থেকে অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বছর সাতেকের সারমেয়টি।

প্রথমে বন্ধুত্ব! আর তা থেকে তিলে তিলে গড়ে ওঠা ভালোবাসা। সঙ্গে অপার স্নেহ। শুধু 'মতি'ই নয়, এতদিনে ধীরে ধীরে সেখানে এসে জড়ো হয়েছে 'জুলি'। সংসার বেড়েছে... মতি-জুলির সন্তান, নাতি, পুতি...আরও কত কে! আর তাদের নিয়ে বেজায় খুশি মনোজ। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের খাওয়ানোর খরচ নিয়ে। নিয়ম করে রোজ পাউরুটি, ডিম, দুধ আবার কখনও মাংসভাত। প্রতিমাসের এই বিপুল খরচ জোগাতে গিয়ে এবার চাপে পড়েছেন মনোজ।

যদিও, ওই এলাকারই এক বাসিন্দা অ্যান্ড্রু সাবু তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। একটি অনলাইন সাইটে পশুপ্রেমীদের কাছে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তাঁরা তাদের সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তবে মনোজের মতো মানুষের জন্য সেই সাহায্যও কি যথেষ্ট?

.