ভুয়ো মামলার শিকার হচ্ছেন বহু তরুণ, রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি কারাটের

Update: November 17, 2012 20:20 IST

সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে সারা দেশে বহু মানুষ পুলিসি হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ বিচারপর্বের পর তাঁরা ছাড়া পেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না। এই অভিযোগ জানিয়ে আজ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে স্মারকলিপি দেয় সিপিআইএম। সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাটের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যান সুভাষিণী আলি, মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি এবং দুই তরুণ। এই দুই তরুণের মধ্যে একজন ১৪ বছর ও আরেকজন আট বছর জেলে কাটিয়ে অবশেষে বেকসুর মুক্তি পান। ভুয়ো মামলার শিকার হচ্ছেন যাঁরা তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আর্জিও জানান তারা।

কারাট বলেন কোনও প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী তরুণকে সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আদালত তাঁদের পরে বেকসুর মুক্তিও দিচ্ছে। এরকম অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটা উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পরেও তাঁদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না। কারাট বলেন সরকারের উচিত তাঁদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার যথাযত দায়িত্ব নেওয়া বলেও।

ভুয়ো মামলার ক্ষেত্রে দোষী পুলিসকর্মীদের শাস্তি ও বিশেষ আদালতে এক বছরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানান তিনি। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ আইন ইউএপিএ পুনর্বিবেচনা করার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে সিপিআইএমের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।