নাগপুরে সম্মান রক্ষায় ঝাঁপাল ধোনিবাহিনী

নাগপুরে সম্মান রক্ষায় ঝাঁপাল ধোনিবাহিনী

নাগপুরে সম্মান রক্ষায় ঝাঁপাল ধোনিবাহিনীভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের শেষ টেস্ট শুরু হয়ে গেল। ওয়াংখেড়ে আর ইডেনে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর নাগপুরে ভারতের শুরুটা নেহাত মন্দ হল না। অন্তিম টেস্টের প্রথম দিনে ভারতীয় বোলাররা ইংল্যান্ডকে ১৯৯ রানে আটকে রেখে দিল। যদিও ব্রিটিশদের হাতে এখনও ৫ উইকেট। রুট ৩৪ এবং প্রায়র ৩১ রানে ক্রিজে অপরাজিত।

সিরিজ জিতে বদলার স্বপ্ন তো কবেই অস্তমিত। চতুর্থ টেস্ট জিতে নিদেন পক্ষে সমতা ফেরাতে তাই মরিয়া ধোনিবাহিনী। তার কিছুটা প্রতিফলন আজ মাঠেই দেখা গেল। পরপর দুই টেস্টে লজ্জাজনক পারফর্মেন্সের পর ভারতীয় বোলাররা প্রথম থেকেই আজ ফর্মে। মর্নিং সেশনেই নাগপুরের পিচ নিজের চরিত্র বুঝিয়ে দিয়ে গেল। ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়া একমাত্র পেসার ইশান্ত শর্মা প্রথম থেকেই চাপে রাখলেন ইংরেজ ব্যাটিং লাইনআপকে। দিনের শুরুতেই তাঁর বলে আউট হয়ে দ্রুত প্যাভিলিয়নমুখী হন কমপটন। শর্ট লেংথ থেকে উঠে আসা বলটি কমটনের ব্যাটের কিনারা ছুঁয়ে যখন ধোনির হাতে পৌঁছিয়ে যায় তখন তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৩। পরপর তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর ক্যাপ্টেন কুকের জাহাজ মাত্র এক রানেই থেমে গেল নাগপুরে। ইশান্তের বলে এলবিডব্লুউ হন তিনি। তবে কুকের দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য ধোনিরা কিন্তু কিছুটা হলেও আম্পায়রের সিদ্ধান্তের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন। তৃতীয় উইকেটে ট্রট আর পিটরসন প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলিয়ে যখন একটা বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, জুটি ভাঙার কাজটি করেন দলে নতুন আসা রবীন্দ্র জাদেজা। ট্রটকে ৪৪ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়ে জাদেজা তাঁর জীবনের প্রথম টেস্ট উইকেটটি নিয়ে ফেললেন। তবে ট্রট আউট হলেও থামানো গেল না কেপিকে। তিনি যেন ঠিকই করে ফেলেছেন ভারতেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটাকে পাকা করে দিয়ে যাবেন। আজকেও জাদেজার বলে আউট হওয়ার আগে দলের স্কোরবোর্ডে প্রয়োজনীয় ৭৩ রান যোগ করে দিয়ে গেলেন তিনি।

দেশের মাটিতে দুই টেস্টে শোচনীয় পরাজয়ের পর সম্মান বাঁচানোই এখন ধোনির কাছে লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাহির সময়টা বোধহয় এখন সত্যিই খুব খারাপ চলছে। একেইতো দলের সঙ্গে নিজের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন ক্যাপ্টেন কুল। অধিনায়কের সিংহাসনটাও চ্যালেঞ্জের মুখে। এর মধ্যেই ফের বিতর্কে  জড়ালেন তিনি। নির্বাচকদের কাছে টিমমেট গৌতম গম্ভীরের বিরুদ্ধে নালিশ করার অভিযোগ ফাঁস হয়ে গেল মিডিয়ায়। দলের এই খারাপ সময়ে যখন ড্রেসিংরুমে ঐক্যের সন্ধান চালাতে ব্যস্ত সবাই, তখন এরকম একটা খবর টিম ইন্ডিয়ার একদা সুখের সংসারে টানাপোড়েন বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়ে গেল। তবে প্রার্থনা একটাই, ব্যক্তিগত সংঘাত যেন ২২ গজে ভারতের তরী আর একবার না ডোবায়। অন্যথায় ধোনিবাহিনী বোধহয় সিরিজ শেষে মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজে পাবেন না।   

তবে নাগপুরের পিচ কোনদিনই স্পিনিং ট্র্যাক হিসাবে সুপরিচিত নয়। এই মাঠে তিন স্পিনার আর এক পেসার নিয়ে ধোনির ফাটকা কিন্তু প্রথম দিন মোটামুটি সফল। যদিও এই ভারতীয় দলের সঙ্গে 'না আঁচালে বিশ্বাস নেই' প্রবাদটা এতটাই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গেছে আরও দিন দু'য়েক খেলা না গড়ালে কোন ভবিষ্যতবাণী করাটা কার্যত মূর্খামি।

আগের টেস্টে চূড়ান্ত ফ্লপ হওয়ার পরেও এই টেস্টেও বহাল থাকলেন ইশান্ত শর্মা। ফলাফল? আরও একবার বাংলার ঝুলিটা শূন্যই রয়ে গেল। নাগপুরেও ব্রাত্যই রয়ে গেলেন অশোক দিন্দা।






First Published: Thursday, December 13, 2012, 18:49


comments powered by Disqus