এবার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আসারামের ছেলে

গোঁফদাড়ি কেটেও পুলিসের জাল কাটতে পারলেন না আসারাম পুত্র, নারায়ণ গ্রেফতার ধর্ষণের দায়ে

গোঁফদাড়ি কেটেও পুলিসের জাল কাটতে পারলেন না আসারাম পুত্র, নারায়ণ গ্রেফতার ধর্ষণের দায়েশেষ পর্যন্ত পুলিসের জালে ধরা পড়লেন নারায়ণ সাই। সুরাতের এক মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে আজ তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিস। প্রায় ৫৮ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন আসারাম বাপুর ছেলে নারায়ণ সাই। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ,যৌন হেনস্থা এবং জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ এনেছিলেন সুরাতের এক মহিলা। তারপর থেকেই গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন নারায়ণ সাই। আজ তাকে দিল্লির রোহিণী আদালতে তোলা হয়। নারায়ণ সাইয়ের ট্রানাজিট রিমান্ডের আবেদন জানায় সুরাত পুলিস। আদালতে চব্বিশ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

বিস্ফোরক খবরটা প্রথম সামনে আসে মাস দুয়েক আগে। তারপরই গ্রেফতার হন আসারাম বাপু। কিন্তু, কোথায় তাঁর ছেলে নারায়ণ সাই? একই অভিযোগ তো রয়েছে তার বিরুদ্ধেও। জানা যায়, যৌন কেলেঙ্কারির খবর চাউর হতেই গা-ঢাকা দিয়েছেন নারায়ণ সাই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনও হদিশই পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত, অবশ্য দিল্লি পুলিসের চোখে আর ধুলো দিয়ে থাকতে পারলেন না নারায়ণ সাই। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় ধরা পড়ে গেলেন আসরাম বাপুর ছেলে।

টানা ৫৮ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন নারয়ণ সাই। ই অক্টোবর যখন সুরাতে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছে, তখন নারয়ণ সাই বসে রয়েছেন জয়পুরে। খবর পেয়েই হেলিকপ্টারে আগ্রা হয়ে ছোটেন দিল্লি। সেখানে নিজের একটা হলফনামা তৈরির জন্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে চলে যান উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে। সেখানে আশ্রমে সপ্তাহখানেক কাটান। আর সেখানেই হয় ভোলবদল।

কেটে ফেলেন গোঁফদাড়ি। সেখান থেকে হরিদ্বার যান। ছিলেন প্রায় দশদিন। হরিদ্বার থেকে সোজা মুম্বই, গুজারাতের বালসার হয়ে রাজস্থানের উদয়পুর। শেষপর্যন্ত ঘাঁটি গাড়েন দিল্লির আশ্রমেই। দিন কুড়ি আগে চলে যান লুধিয়ানায়। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে ধরা পড়ে গেলেন দিল্লি পুলিসের হাতে। নারায়ণ সাইয়ের নাগাল পেতে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে দিল্লি পুলিস। গ্রেফতারের খবরটা বুধবার সকালেই পেয়েছেন সেই নির্যাতিত মহিলা। টানা প্রায় চার বছর নারায়ণ সাইয়ের লালসার শিকার হয়েছেন তিনি।

ছেলের গ্রেফতারির খবর পেয়েছেন আসারাম বাপুও। নারায়ণ সাইয়ের সঙ্গে ধরা পড়েছে তার চার সঙ্গীও। তার মধ্যে রয়েছে হনুমান আর ভাবিকা। নারায়ণ সাইয়ের যাবতীয় কুকর্ম গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখত হনুমান। পরে সেগুলোকে কাজে লাগিয়েই ব্ল্যাক মেল করা হতো। বুধবারই দিল্লির রোহিণী আদালতে তোলা হয় নারায়ণ সাইকে। আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখান আসারাম বাপুর অনুগামীরা।

First Published: Wednesday, December 04, 2013, 18:29


comments powered by Disqus