বিহারের জনসভায় বিস্ফোরক মোদী ফাটলেন নীতীশে

Last Updated: Sunday, October 27, 2013 - 16:51

বছর ঘুরতে চলল। এতদিন চুপ ছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন এই সময়টারই। বিজেপির ঘর ভাঙার জন্য কড়া নীতীশকে শোনানোর দরকার ছিল। আর তাই রবিবার ভিড়ে ঠাসা সমাবেশে পাটনার মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে কড়া শোনাতে কসুর করলেন না মোদী। গান্ধী ময়দান থেকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর হুঙ্কার, "আমাকে যখন অনেকে প্রশ্ন করে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, আমি বলি, যিনি জয় প্রকাশ নারায়ণকে ছেড়ে যান তিনি বিজেপির সঙ্গে থাকতে পারবেন না।"
কুমারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, নীতীশ `হিপোক্রিট`। তিনি `ভণ্ড`। কী দেখে নীতীশের ভণ্ডামির নজির পেলেন মোদী? সমাবেশে আগত জনসমাগম যে এইটেই শুনতে চায়, বিস্ফোরণের মাঝেও সমাবেশ করা পক্ককেশ রাজনেতা তা ভালই ঠাউর করেছিলেন। "বছরে দু`বার, সব মুখ্যমন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয়। সেখানেই একটা ভোজের আয়োজন করা হয়। একবছর আগের কথা। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজের আসরে আমি ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পাশাপাশি বসে আছি। খেয়াল করলাম উনি খাবার খাচ্ছেন না। প্রথমটায় আমি একটু ঘাবরালাম। পরে খেয়াল হল... তখন আমি ওনাকে বললাম, এখানে কোনও ক্যামেরা নেই। আপনি খেতে পারেন।" ব্যাস, বিহারের দলের সমর্থকদের মন জয়ের জন্য যথেষ্ট। ফের হুঙ্কার মোদীর, "ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত।"
হুঙ্কার অর্থ নিজের আওয়াজ বোঝানো। ২০১৪-র আগে বিহারের মাটিতে সবচেয়ে বড় সমাবেশটা যে মোদীই করে গেলেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু মোদীর আজকের সমাবেশ নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচির আর অন্য সব সমাবেশের থেকে যে আলাদা। আর কালকের খবরের কাগজের শিরনাম যে মোদীই দখল করবেন তা বোঝা হয়ে গিয়েছে। মোদী সভামঞ্চে আসার অনেক আগেই। সভার আগে বারবার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বিহার। আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে বিহারে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ। দুপুর ১২টা অবধি মোট ৭টি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে একটা আবার মোদীর সভাস্থল থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে গান্ধী ময়দানে। ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
তবে এই বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে একটাও শব্দ খরচ করতে চাননি মোদী। তিনি শুধু বলেন, "যখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী গুজরাত এসেছিলেন আমি তাঁর সমস্ত খেয়াল রেখেছিলাম। আমাদের অতিথিদের খেয়াল রাখতে আমি জানি।" বিস্ফোরণ নিয়েই যে ভ্রূ বাঁকালেন মোদী, তা বলাই বাহুল্য।



First Published: Sunday, October 27, 2013 - 16:53


comments powered by Disqus