দিল্লিতে মাটি শক্ত করতে আসরে মোদী

Update: February 4, 2013 11:33 IST

রাজধানীর রাজনীতিতে মোদীর পক্ষে-বিপক্ষে হাওয়া এখন চরমে। ২০১৪-র নির্বাচনে যুব সমর্থন যে একটা বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। সম্ভবত সেটা আঁচ করেই আগামি বুধবার রাজধানীতে পা রাখতে চলেছেন গুজরাত মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দিল্লির শ্রীরাম কলেজের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন মোদী। লোকসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনার পারদ যখন কার্যত চড়তে শুরু করেছে, তখন মোদীর ভাষণে ভাবি প্রধানমন্ত্রীর সুরই শোনা যাবে। এমনটাই আশা রাজনৈতিক মহলের। কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে আলাপচারিতায়ও মাতবেন তিনি। বিজেপির একাংশের মতে, দলের নেতারা চান, তরুণ সমাজের সঙ্গে বেশি করে মেশা প্রয়োজন মোদীর। সেই কারণের শ্রীরাম কলেজে আলোচনাচক্রের আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সংঘ পরিবারের কাছের ধর্মীয় সংগঠন বলে পরিচিত ভিএইচপি আগামী ৫ ও ৬ তারিখ এলাহাবাদে কুম্ভ মেলায় মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করবে। ৬ তারিখ কুম্ভ প্রদর্শনে যাওয়ার কথা বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংয়েরও। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর ভিএইচপি-র তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান তাঁরা।

যদিও মোদীকে এখনই প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী ঘোষণা করার কথা অস্বীকার করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। বিতর্ক উস্কে দিয়ে এনডিএ শরিক জেডি(ইউ) নেতারা জানিয়েছেন, "প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিন্দ্বিতা কে করবেন সেটা ঠিক করবে রাজনৈতিক দলগুলিই।" ধর্মীয় আখারায় তার সিদ্ধান্ত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জেডি(ইউ) নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি।

প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর নাম নিয়ে যখন জেডি(ইউ)য়ের সঙ্গে বিবাদ তুঙ্গে, তখন নরেন্দ্র মোদীকেই ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং। রবিবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য, মোদী অত্যন্ত যোগ্য। মোদীই সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাহলে কি ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীই? বিজেপি সভাপতির অবশ্য দাবি, শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই দলের সংসদীয় বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে সওয়াল করায়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে কটাক্ষ করেছে এনডিএ শরিক জেডি(ইউ)। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপি সভাপতির এই মন্তব্য।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।