নারী ও কথামৃত

Update: March 7, 2013 16:59 IST

সাম্প্রতিক কালে দেশে মেয়েদের উপর ধর্ষণ ও যৌননির্যাতন সম্পর্কে যে সমস্ত `অমৃতবাণী` আমাদের `ঋদ্ধ` করেছে তার সংক্ষিপ্ত তালিকা-

``রাত্রি বেলা মেয়েদের বাড়ির বাইরে বেরনো উচিত নয়।`` - নীরজ কুমার (দিল্লি পুলিস প্রধান)

``যারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে থানায় ডায়রি করতে আসে আসলে তারা ধর্ষণ নিয়ে ব্যবসা করতে চায়``- জনৈক পুলিস অফিসার

``ফ্যাশনেবল শরীর দেখানো পোষাক পরে, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মদ খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধিই ধর্ষণের কারণ``- জনৈক তদন্তকারী পুলিস অফিসার


"মুখে রংচঙ মেখে সুন্দরী মহিলারা ২মিনিটের খ্যাতি পেতে ইন্ডিয়া গেটে এসে ভিড় জমাচ্ছে``- অভিজিৎ মুখার্জি, লোকসভা সাংসদ

``স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা চুক্তি ভিত্তিক হওয়া উচিত। যেখানে স্বামী, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে আর স্ত্রী তার ঘর সামলাবে। স্ত্রী যদি সেই কাজ করতে না পারে স্বামী তাকে ছেড়ে যেতেই পারে।``- মোহন ভাগবত, সঙ্ঘ প্রধান

``দিল্লি ধর্ষণ কাণ্ডে ধর্ষকদের সঙ্গে ধর্ষিতাও সমান দায়ী। মেয়েটি যদি ধর্ষণের প্রতিবাদ না করে ওই লোকগুলোকে ভাই সম্বোধন করে প্রাণভিক্ষা চাইত, তাহলে হয়ত মেয়েটি বেঁচে থাকত।``- আসারাম বাপু, ধর্মগুরু

``চাউমিন জাতীয় ফাস্টফুড খেলে শরীর গরম হয়। তাতে শরীরে বেশি বেশি সেক্স হরমোন খরণ হয়। যা ধর্ষকাম বাড়ায়।``- জিতেন্দর ছাত্তার, হরিয়ানার জিন্দের খাপ নেতা

``মেয়েটি যদি ধর্ষণের সময় প্রতিবাদ না করে ছ`জন লোকের কাছে আত্মসমর্পণ করত তাহলে হয়ত তার অন্ত্রটি বেঁচে যেত। রাত দশটার সময় বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মেয়েটি করছিলই বা কী?``- অনিতা শুক্লা, বৈজ্ঞানিক

"সব সাজানো ঘটনা``- মমতা ব্যানার্জি, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ (পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ড প্রসঙ্গে)

``ওটা ধর্ষণের ঘটনাই নয়। ওই মহিলা আর তাঁর খদ্দেরদের মধ্যে গোলমাল।``- কাকলি ঘোষদস্তিদার, সাংসদ, তৃণমূল কংগ্রেস (পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ড প্রসঙ্গে)

``পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ড ও দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিত আলাদা।``- অর্পিতা ঘোষ, নাট্যকর্মী (পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ড প্রসঙ্গে)

``মেয়েরা ছোট স্কার্ট পরে বলে শ্লীলতাহানির মত ঘটনা ঘটছে।`` - চিরঞ্জিত্, অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক (বারাসাতে ঘটে চলা একের পর এক শ্লীলতাহানি প্রসঙ্গে)

``সব মিথ্যে, আমি খবর পেয়েছি ওই মহিলার স্বামী সিপিএম করত।``- মমতা ব্যানার্জি, মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ (কাটোয়ায় মহিলাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ধর্ষণের প্রেক্ষিতে)











Post Your Comment

Total Comments:1

Purush sasito samaje meye der voggo panno hisabe dekha ta purusder rakte misegeche.dharsoner moto grinno aporadher poreo tar dae meyeder upor chapano ta ki tader ek amanobik moner bohiprokash nae?tahole ki nari puruser serar lorie neme amra hariefelchi amader monusotto?jodi tai hae tahole ta samjer kache ek bhyabaho barta bahan karche.pasai jibjagote sresthotter siropa j achirae amader hatchara hote choleche ta bolai bahullo.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।