জাতীয় শিশুকন্যা দিবস, উদ্বেগের বাস্তবচিত্র

Last Updated: Thursday, January 24, 2013 - 10:26

আজ জাতীয় শিশুকন্যা দিবস। তার আগে দেশে মেয়েদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমীক্ষা যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে। কন্যা ভ্রূণ হত্যা, অপুষ্টি, নারী শিক্ষার হতাশাজনক ছবি ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আজকের নারী আর চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ নয়। শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই আজকের অর্ধেক আকাশ। কিন্তু প্রদীপের নীচে পিলসুজের মতই আজকের নারীর এই এগিয়ে চলার আড়ালে রয়েছে অন্য এক উদ্বেগ।
দেশেরই বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত হারে বাড়ছে কন্যা ভ্রূণহত্যার সংখ্যা। গ্রাম কিংবা শহরের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ব্যাধির মত ছড়াচ্ছে এই সমস্যা। আইন প্রণয়ন হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। জি রিসার্চ গ্রুপের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০৯-এ জাতীয় শিশু কন্যা দিবস পালনের পর থেকে সারা দেশে মোট ৪৮১টি কন্যা ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু চার্জ গঠন হয়েছে মাত্র ২৭টি মামলার। ২০১১-১২ তে ২৭৯ অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বেআইনি ডায়গনস্টিক সেন্টার। যেগুলিতে প্রতিনিয়ত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে গর্ভপাত। ২০১২-র অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের থানেতে অভিযান চালানোর পর ১০০টি বেআইনি গর্ভপাত কেন্দ্র এবং ৩১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিল করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।
শুধু ভ্রূণ হত্যাই নয়। রয়েছে অন্য সমস্যাও। পরিসংখ্যান বলছে সারা দেশে শিশুপুত্রের তুলনায় কমছে শিশুকন্যার সংখ্যা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছবি হরিয়ানার ঝাজ্জর এবং মহেন্দ্রগড় জেলার।
শিশুকন্যাকে পৃথিবীর আলো দেখানোর মতোই তাকে স্কুলে পাঠানোর পরিসংখ্যানের ছবিটাও উদ্বেগজনক। জি রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষা অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ২৯ বছরের একটি ছাত্রের ক্ষেত্রে শিক্ষাখাতে বছরে যা ব্যয় হয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে তা অনেক কম হয়ে থাকে। বিহার এবং রাজস্থানে মেয়েদের স্বাক্ষরতার হার সবচেয়ে খারাপ।
এ সবের সঙ্গে রয়েছে অপুষ্টিজনিত সমস্যা। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে ২০১১-এ ৪১.৪ শতাংশ শিশুকন্যা অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগেছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে অনুসারে মেয়েদের মধ্যে বাড়ছে রক্তাল্পতার সমস্যা। অসম, ঝাড়খন্ড ৬৯.৫ শতাংশ নারী রক্তাল্পতার শিকার। তারপরেই রয়েছে বিহার এবং ত্রিপুরা। যথাক্রমে ৬৭.৪ এবং ৬৫.১ শতাংশ।
তবে এই সব সমস্যা সত্ত্বেও নারী শক্তি জাগরনে কিশোরী শক্তি প্রকল্প ও রাজীব গান্ধী প্রকল্পের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নারীর বিকাশ, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নয়নের প্রসারে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে এই দুটি প্রকল্প। ২০০৮-০৯-এ কিশোরী শক্তি প্রকল্পে ৫২.২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১২-২০১৩-তে সেই বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৬.৭৩ কোটি টাকা।



First Published: Thursday, January 24, 2013 - 10:26


comments powered by Disqus