উপরাষ্ট্রপতি পদে এনডিএ প্রার্থী জশবন্ত সিং, আনসারির পাশে সিপিআইএম

Update: July 16, 2012 12:40 IST

উপরাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএর হামিদ আনসারির বিরুদ্ধে এনডিএর প্রার্থী হচ্ছেন জসবন্ত সিং। আজ দিল্লিতে বৈঠকের পর এনডিএর তরফে এই ঘোষণা করেছেন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণী। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে জট ছাড়াতে আজ বৈঠকে বসেছিল এনডিএ-র সমস্ত শরিক দল।

এদিনের বৈঠকে প্রাথমিক ভাবে এনডিএর প্রার্থী হিসেবে এনডিএ-র আহ্বায়ক তথা জনতা দল(ইউনাইটেড) সভাপতি শরদ যাদবের নাম উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জেডি(ইউ) সাংমাকে সমর্থন না করায় এনডিএ শিবিরে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। সে কারণেই সংঘবদ্ধ এনডিএর বার্তা দিতেই উপরাষ্ট্রপতি পদে শরদ যাদবকে চেয়েছিল এনডিএর একাংশ। কিন্তু শরদ যাদব প্রার্থী হতে রাজি হননি। শেষপর্যন্ত এনডিএর প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয় রাজস্থানের বিজেপি নেতা তথা দার্জিলিঙের সাংসদ জসবন্ত সিংয়ের নাম।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথমে ইউপিএ এবং বামেদের প্রার্থী হামিদ আনসারির বিরুদ্ধে শিরোমণি অকালি দলের নেতা চরণজিত্‍ সিং অটোয়ালকে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। কিন্তু অটোয়াল অস্বীকৃত হওয়ায় এনডিএ-র তরফে প্রার্থী করা হয় বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারপার্সন নাজমা হেলতুল্লাকেঙ।

অন্যদিকে এদিন উপরাষ্ট্রপতি পদে ইউপিএ প্রার্থী হামিদ আনসারিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে সিপিআইএম। সিপিআইএমের তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে আজ জানানো হয়েছে, উপরাষ্ট্রপতি পদে হামিদ আনসারিকে সমর্থন করবে দল। যদিও, এই প্রসঙ্গে অন্য দলগুলির অবস্থান এখনও জানা যায়নি।


সিপিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বুধবার তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। উপরাষ্ট্রপতি পদে হামিদ আনসারিকে সমর্থন করতে পারে ফরওয়ার্ড ব্লক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতোই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ভোটদানে বিরত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন আরএসপি নেতা অবনী রায়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় প্রথমে বামেদের তরফেই হামিদ আনসারির নাম প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। ইউপিএ নেতৃত্ব বামেদের সেই প্রস্তাব মেনে আনসারির পাশে দাঁড়িয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সিপিআইএম এবং এনডিএ শিবির নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পর এবার জল্পনার কেন্দ্রে তৃণমূল। ২০০৭ সালে উপরাষ্ট্রপতি পদে হামিদ আনসারির নাম বামেরাই উত্থাপন করেছিল। ফলে এবারে প্রথম থেকেই হামিদ আনসারির নামে আপত্তি ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে তৃণমূল হামিদ আনসারির বিরোধিতায় প্রকাশ্যে সরব হবে না বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। সেই একই কারণে তৃণমূলের পক্ষে এনডিএর প্রার্থী জসবন্ত সিংকেও সমর্থন করা সম্ভব নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি পদে ভোটদানে তৃণমূল বিরত থাকতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।




Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।