নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব নয়াদিল্লির

Update: February 11, 2012 21:36 IST

মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠাল নয়াদিল্লি। শ্রীলঙ্কায় থাকা নাশিদের পরিবারকেও নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মালদ্বীপে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী দিল্লি। কথা বলা হচ্ছে সে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ ওয়াহিদ হাসানের সঙ্গে।  

দিল্লির শান্তিপ্রচেষ্টার মাঝেই, শনিবার মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ ওয়াহিদ হাসান জানিয়েছেন, নাশিদ জমানার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।

ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিহিংসার রাজনীতির ছোঁয়াচ লেগেছিল মালদ্বীপে। বৃহস্পতিবার আরব সাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের ফৌজদারি আদালত সদ্য-পদত্যাদী প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরই তাঁকে আটক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নাশিদ-ক্যাবিনেটের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তলহাত ইব্রাহিম খালেফানুরকেও গ্রেফতার করেছে পুলিস।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে নাশিদের স্ত্রী লায়লা আলি মালদ্বীপ ছেড়ে শ্রীলঙ্কায় চলে গেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন বলে শ্রীলঙ্কা সরকারের সূত্রে খবর মিলেছে। মালদ্বীপের নয়া প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ ওয়াহিদ তাঁর ক্ষমতাচ্যূত পূর্বসূরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে দাবি কলম্বোর মিডিয়ার। যদিও নাশিদের দল মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি`র তরফে তাঁর জীবনসংশয় আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে সূত্রের খবর, নাশিদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হবে না বলেই দিল্লিকে আশ্বাস দিয়েছেন ওয়াহিদ হাসান। মালদ্বীপে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এম গণপতি। জানা গিয়েছে, নাশিদ ও তাঁর পরিবারকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। যদিও নাশিদ মালদ্বীপে থেকেই নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।