বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়া অর্ডিনান্স

Update: October 19, 2011 22:57 IST

রাজ্যের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। অনুদানপ্রাপ্ত তেরোটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধনী আইন আনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত অর্ডিনান্স জারি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সেই অর্ডিনান্সে বলা হয়েছে, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থায় ছাত্র, শিক্ষাকর্মী এমনকী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে না। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধনী আইন সংক্রান্ত এই অর্ডিনান্স অনুসারে, সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থায় ছাত্রদের কোনও প্রতিনিধিত্ব থাকবে না। থাকবে না শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিত্ব। পাঁচ জন শিক্ষক শুধুমাত্র নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোটাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে অর্ডিনান্সে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চনিয়ামক সংস্থা কোর্ট, সেনেট কাউন্সিল বা সিন্ডিকেটের সদস্য সংখ্যা কমানো হবে। নির্বাচিত সদস্যের বদলে বাড়ানো হবে মনোনীত সদস্যের সংখ্যা। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধনী আইন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিষয়টি বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। বিল আনার আগে আপাতত অর্ডিনান্স জারি করা হচ্ছে। স্বাক্ষরের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হচ্ছে অর্ডিনান্স। এছাড়াও উপচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। মেয়াদ ফুরোনোর আগেই প্রয়োজনে উপাচার্যকে অপসারণ করা যাবে। উপাচার্য কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে  কাজ করতে পারবেন না। সার্চ কমিটিতে থাকবে গভর্নরস নমিনি, ইউজিসি নমিনি এবং কোর্ট বা সেনেট নমিনি। এদিকে সরকারের এই অর্ডিন্যান্স ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষামহলে। সরকারের তরফে দাবি, ইউজিসির নিয়ম মেনেই সব পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো নিয়ে ইউজিসির নিয়ম মানা হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চুপ সরকার।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।