বৃষ্টিহীন দক্ষিণবঙ্গে খরার আশঙ্কা

Update: July 1, 2012 19:44 IST

দক্ষিণবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্ষার প্রথম একমাসে মৌসুমী বায়ুর গতিপ্রকৃতি দেখে এমনই আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ রাজ্যের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলেও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ফলে, কৃষি উত্‍পাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   

এ রাজ্যে খাদ্যশস্য সহ অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের উত্‍পাদনের সিংহভাগই আসে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। তাই, বর্ষার প্রথম একমাসে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি চিন্তা বাড়াচ্ছে। কৃষি উত্‍পাদন মার খেলে চড়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।

জুন মাসে গোটা রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ১৪ শতাংশ। দক্ষিণবঙ্গে এই ঘাটতির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বৃষ্টিপাতের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি নদিয়া জেলায়, ৫৯ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। সেখানে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৫২ শতাংশ। পূর্ব মেদিনীপুরে ৫০ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। মুর্শিদাবাদে ঘাটতির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ। উত্তর চব্বিশ পরগনায় ৪২ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২৯ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটতির পরিমাণ ২৮ শতাংশ। পুরুলিয়ায় ঘাটতির পরিমাণ ২৭ শতাংশ। বর্ধমানে ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। হুগলিতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২১ শতাংশ।  

বর্ষা নামার আগে সারা দেশে ১০২ শতাংশ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল দিল্লির মৌসম ভবন। বর্ষা নামার পর বাইশে জুন তাদের পূর্বাভাস বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ৯৯ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসে, সারা দেশে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২৯ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৬৯ শতাংশ। মধ্য ভারতে ৩৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২৯ শতাংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে ৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। 

ফলে, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে সারা দেশে মৌসুমী বায়ু ছড়িয়ে পড়বে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।