পরমাণু সন্ত্রাস মোকাবিলায় ঐক্যমত্য সিওলে

Update: March 28, 2012 12:39 IST

পরমাণু সন্ত্রাসই এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ। দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে কোনও মতেই পরমাণু শক্তির নাগাল না পায় তা নিশ্চিত করতে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন ৫৮টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।

পরমাণু সুরক্ষা ও পরমাণু নিরাপত্তা। সিওলের সম্মেলনে দুটি বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র শুধু নয়, অসামরিক পরমাণু চুল্লিও যে মানব সভ্যতার ক্ষেত্রে কতটা মারাত্মক হতে পারে তার সাম্প্রতিক প্রমাণ ফুকুশিমা। সিওলের সম্মেলনে তাই পরমাণু সুরক্ষা ও পরমাণু নিরাপত্তাকে একই পঙক্তিতে রেখে সম্ভাব্য সমস্যার উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। তবে পরমাণু দুর্ঘটনার বিপদের কথা স্বীকার করে নেওয়া হলেও, পরমাণু সন্ত্রাসকেই সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার মনে করছে উন্নয়নশীল ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলি। পরমাণু সন্ত্রাসকেই সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতও। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ``তালিবান কিংবা আল কায়দার মতো জঙ্গি সংগঠনের হাতে পরমাণু অস্ত্র কিংবা প্রযুক্তি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।`` 

অধিকাংশ রাষ্ট্রপ্রধানই মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যের পক্ষেই মতপ্রকাশ করেছেন। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে কোনওমতেই পরমাণু জ্বালানি এবং পরমাণু অস্ত্র প্রযুক্তির নাগাল না পায়, তার জন্য এবারের সম্মেলনে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর।
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।