ভারতের মাওবাদী আন্দোলনে প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাকিস্তান

Last Updated: Saturday, January 12, 2013 - 12:01

ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গেও এবার সরাসরি জড়িয়ে গেল পাকিস্তানের নাম। ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলায় যৌথবাহিনী-মাওবাদী সংঘর্ষের পর সামনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাওবাদীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার গ্রেনেড এবং অস্ত্রশস্ত্রের অধিকাংশই পাকিস্তানে তৈরি। এমনটাই দাবি রাজ্য পুলিস প্রশাসনের। পাশাপাশি লাতেহারে হামলার পরে দুই মাওবাদী শীর্ষনেতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
কখনও সীমান্তপার সন্ত্রাস, কখনও ভারতের মাটিতে নাশকতা। জঙ্গি অনুপ্রবেশ, নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্ত্রবিরতি ভঙ্গ, সন্ত্রাস সহ একাধিক ইস্যুতে ভারত-পাক সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দিয়েছে বারে বারে। মাওবাদীদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এবার সেই মাওবাদীদের সঙ্গেও পাক যোগাসাজশের অভিযোগ উঠল। লাটেহারে মাওবাদী-যৌথবাহিনীর সংঘর্ষের পরই সামনে এসেছে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাটিয়ার জঙ্গলে মাওবাদীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার গ্রেনেড এবং অস্ত্রশস্ত্রের  অধিকাংশই পাকিস্তানে তৈরি। ঝাড়খণ্ড পুলিস সূত্রে একথা জানা গিয়েছে।
 
বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী শীর্ষনেতৃত্বের সন্ধানে লাতেহারের প্রত্যন্ত জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছিল যৌথবাহিনী। গত রবিবার সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ১১ জন সিআরপিএফ জওয়ান ও কয়েকজন মাওবাদীর। সোমবার দেহ উদ্ধারের সময় একটি মৃতদেহে রাখা বিস্ফোরকে মৃত্যু হয় ৩ জন স্থানীয় বাসিন্দার। পরে নিহত সিআরপিএফ জওয়ান বাবুলালের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঁচি আনা হলে চিকিত্‍সতদের তত্‍পরতায় ধরা পরে তাঁর শরীরের ভিতরে বোমা রাখা আছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করে তা দেহ থেকে বের করে আনে বম্ব স্কোয়াড।  ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই মাওবাদী শীর্ষনেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
 
লাতেহারে মাওবাদীদের এই নয়া কৌশলে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে ঘটনায় পাকিস্তানের নাম সামনে চলে আসায় এবার দেশের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার প্রসঙ্গে বিরোধীদের তোপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপি নেতা শাহনাহাজ হুসেন জানিয়েছেন, "মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
 
এর আগে মাওবাদীদের অস্ত্রভাণ্ডারে চিনা অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেলেও পাকিস্তানে তৈরি বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধার এই প্রথম।  পাশাপাশি মাওবাদী হামলায় নিহতদের শরীরে বোমা রাখার ঘটনাও দেশে এই প্রথম। প্রায় দেড় কেজি ওজনের বোমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী, হালকা চাপেই বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বোমা উদ্ধারের পরই তাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে এবার কি তবে  মৃতদেহকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কৌশলও রপ্ত করছে মাওবাদীরা? পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া মাওবাদী নেতা প্রভাত মোচী জানিয়েছে গত ছমাস যাবত্ এই কৌশলে হামলার ছকে কষেছিলেন  তাঁরা। কুকুর বা ছাগলের দেহে বিস্ফোরক রেখে রীতিমত পরীক্ষাও চালানো হয়েছে। প্রভাত মোচী সহ দুই মাওবাদী নেতাকেই বৃহস্পতিবার জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালতে।



First Published: Saturday, January 12, 2013 - 12:01


comments powered by Disqus