পার্কস্ট্রীটের ঘটনার পর থেকে পুলিসের হাতেই লাঞ্ছিত হচ্ছেন ধর্ষিতা

Update: September 14, 2012 20:14 IST

প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন পার্কস্ট্রীটের ধর্ষিতা। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিস সম্পর্কে তাঁর ধারনাটা বদলে গিয়েছিল তাঁর। অভিযোগ নেওয়া তো দূরের কথা উল্টে তাঁকে এবং তাঁর আত্মীয়কে পুলিসের কটূক্তিও শুনতে হয়েছিল। পরবর্তীকালে সংবাদমাধ্যমের চাপে পুলিস কিছুটা সক্রিয় হলেও, আবারও এক পুলিসকর্মীর মানসিক অত্যাচারের শিকার ওই মহিলা। 

ওই ঘটনার পর থেকেই যে আবাসনে থাকেন তিনি, সেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিস পরিচয় দিয়ে তাঁর উপর মানসিক অত্যাচার চালাতেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে যে বৃহস্পতিবার রাতে বৃদ্ধা মা ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন তিনি। যে বাড়িতে তিনি থাকেন, তারই একতলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি থাকেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিনী। নিজেকে আলিপুর থানার পুলিস অফিসার পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ করে, তাঁকে উত্যক্ত করতেন ওই ব্যক্তি। শুধু তিনি একা নয়। পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের পর থেকে নাকি তাঁর দুই মেয়েকেও একাধিকবার কুরুচিকর ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

যে পুলিসকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে পাওয়া নি। ঘটনার পরই তিনি থানায় চলে যান বলে দাবি ওই মহিলার। তবে বাড়ির অন্যান্য আবাসিকরা অবশ্য জানিয়েছেন, ওই মহিলা রাত করে ফেরায় বাড়ির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল।
 
কলকাতায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ইদানিং বার বার প্রশ্ন উঠেছে। রাতের মহানগর যে কতটা নিরাপদ, সেটা বোধহয় তাঁর থেকে ভালো আর কেউ জানেন না। তবুও সব জেনে বুঝেও প্রতিবেশীদের লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে, ফের রাস্তাকেই বেছে নিলেন তিনি। অথচ সেই রাতেও যেমন অসহায় ওই মহিলার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি পুলিস কিম্বা প্রশাসন, এবারও দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সেই অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়াল না কেউই।






Post Your Comment

Total Comments:2

sebar apnader mato kichu sangbad maddhayam er darun r aboshshoy srimati Damayanti sen er sahajjarthe ei park strit kander j rahasya utghaton hoachilo ebareo asha korbo ei police kormi bole baktitir poricoy utghatito hobe...r aporadhir sasti hobe jodi na sorkar punaray ei mahila mithya bolche na bolen...

darabe keno? freedom mane apni ja icha tai korte paren na. oi mohilar sikhe hoi na keno? meyera freedom bole ki ebar akase urte chai?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।