বিজেপি সম্পর্কে হতাশ দেশবাসী, ব্লগে বার্তা আডবানির

গেরুয়া রাজনীতির অন্দরে তাঁর কর্তৃত্ব কমেছে অনেকটাই। মুম্বইয়ে বিজেপি`র জাতীয় কর্মসমিতির অধিবেশনেই তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল! নাগপুরের সঙ্ঘ নেতৃত্ব এবং নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায় দলীয় সংবিধান সংশোধন করে নীতিন গডকড়ির দ্বিতীয় বারের সভাপতি পদপ্রাপ্তিতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ লালকৃষ্ণ আডবানি অধিবেশন শেষে প্রকাশ্য সভায় যোগ না দিয়ে দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন। এবার নিজের ব্লগে বিজেপি সভাপতির প্রতি সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন `লৌহপুরুষ`।

Updated: May 31, 2012, 02:45 PM IST

গেরুয়া রাজনীতির অন্দরে তাঁর কর্তৃত্ব কমেছে অনেকটাই। মুম্বইয়ে বিজেপি`র জাতীয় কর্মসমিতির অধিবেশনেই তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল! নাগপুরের সঙ্ঘ নেতৃত্ব এবং নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায় দলীয় সংবিধান সংশোধন করে নীতিন গডকড়ির দ্বিতীয় বারের সভাপতি পদপ্রাপ্তিতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ লালকৃষ্ণ আডবানি অধিবেশন শেষে প্রকাশ্য সভায় যোগ না দিয়ে দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন। এবার নিজের ব্লগে বিজেপি সভাপতির প্রতি সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন `লৌহপুরুষ`। মাত্র সাড়ে সাত মাস আগে ইউপিএ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনচেতনা যাত্রায় নামা প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী এবার সোচ্চার হলেন ১১ অশোক রোডের বর্তমান কর্ণধারের দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। সেই সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, "বিজেপির ভূমিকা নিয়ে আদৌ সন্তুষ্ট নয় দেশবাসী"।
উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের আগে যেভাবে টিম গডকড়ির উদ্যোগে বাবু সিং কুশওয়া-সহ বিএসপি`র দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী-বিধায়কদের দলে নেওয়া হয়, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন গান্ধীনগরের অশীতিপর বিজেপি সাংসদ। প্রশ্ন তুলেছেন, ঝাড়খণ্ড ও কর্নাটকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা অনৈতিক কাজে অভিযুক্ত নেতাদের সম্পর্কে আপসকামী অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও। নানা দুর্নীতির অভিযোগে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বি এস ইয়েদুরাপ্পার পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কেন নীতিন গডকড়ি-অরুণ জেটলির মতো নেতারা বেঙ্গালুরু গেলেন, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন আডবানি। বলেছেন, দেশের আমজনতার `মুড` বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে দল। যদিও লোকসভার বিজেপি নেতা সুষমা স্বরাজের পাশাপাশি দলের রাজ্যসভার নেতা জেটলিরও নিজের ব্লগে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
আডবানি জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালে বিজেপি`র দ্বিতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দলের সাংসদ সংখ্যা ছিল মাত্র ২। সেখান থেকে দেশের শাসক দল হয় বিজেপি। আজও ভারতের ৯টি রাজ্যে এককভাবে বা শরিক দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সরকার চালাচ্ছে প্রস্ফূটিত পদ্ম। কিন্তু ইউপিএ সরকার সম্পর্কে দেশের মানুষ ক্রুদ্ধ হলেও বিজেপি সম্পর্কে জনমানসে হতাশা যে বাড়ছে, প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে নরেন্দ্র মোদীর কাছে হেরে রাজনৈতিক বাণপ্রস্থের মুখে দাঁড়িয়ে সে কথা জানাতে ভোলেননি লালকৃষ্ণ আডবানি। সেই সঙ্গে জোর দিয়েছেন, নিরপেক্ষ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আত্মসংশোধন দিশানির্দেশ সন্ধানের উপর।