এনডিএ-র বন্‌ধ‌ে দেশজুড়ে ব্যাহত জনজীবন

Update: May 31, 2012 09:48 IST

পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনডিএ-র ডাকা ভারত বনধে দেশজুড়ে মিশ্র প্রভাব পড়েছে। বিজেপি তার শরিক দলের শাসিত রাজ্যগুলির পাশাপাশি গোটা উত্তর ও পশ্চিম ভারতে এই বন্‌ধের প্রভাবে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এনডিএ-র পাশাপাশি পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এদিন উত্তরপ্রদেশ জুড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শাসক সমাজবাদী পার্টি। ফলে সে রাজ্যে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ।

রাজধানী দিল্লির রাস্তায় এদিন সকাল থেকেই যানবাহনের সংখ্যা খুব কম। চালকরা বনধে সামিল হওয়ায় আজ দিল্লিতে পথে নামেনি প্রায় ৫৫,০০০ অটো। প্রায় চলছে না ট্যাক্সিও। বিভিন্ন জায়গায় বন‌্ধ সমর্থকরা পিকেটিং করছেন। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিস। দিল্লির বড় বাজারগুলি বন্ধ রয়েছে। দিল্লি সংলগ্ন এলাকাতেও বন্‌ধের ভালো প্রভাব পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে গ্রেফতার হয়েছেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাট, রাজ্যসভার সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি ও সিপিআই নেতা এ বি বর্ধন।

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়েও বন্‌ধ‌ চলছে। রাস্তায় অটো-ট্যাক্সি-বাসের সংখ্যা খুব কম। বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। যে সব জায়গায় শিবসেনা ও বিজেপি-র প্রভাব রয়েছে সেখানে বনধ প্রায় সর্বাত্মক চেহারা নিয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় চলছে পিকেটিং। তবে, মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পঞ্জাবে এনডিএ শরিক শিরোমণি অকালি দলের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে বন্‌ধ সফল করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পাটনায় জনতা দল(ইউ) সমর্থকরা ট্রেন অবরোধ করেন। বিহারে গ্রেফতার হয়েছেন এনডিএর আহ্বায়ক শরদ যাদব ও বিজেপির মুখপাত্র শাহনাওয়াজ হোসেন। এলাহাবাদে রেল স্টেশন অবরোধ করেন সমাজবাদী পার্টি সমর্থকরা। দুই শহরেই আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। কলকাতামুখী বহু যাত্রী আটকে পড়েন বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্টেশনে। অন্যদিকে এনডিএ-র বন্‌ধ‌ের পাশাপাশি পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এদিন সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদে বিক্ষোভ দেখায় বামেরা। দক্ষিণের আর এক রাজ্য কর্নাটকেও এদিন বন্‌ধ‌ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।