ঘূর্ণি পিচে `বিদ্রোহী` কুক-পিটারসেনর চাপে ধোনির কপালে ভাঁজ

Update: November 24, 2012 17:49 IST

ভারত: ৩২৭।
ইংল্যান্ড: ১৭৮/২ (কুক:৮৭*, পিটারসেন: ৬২*)

মুম্বই টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা ভাল গেল না ভারতের। প্রথম দিনের উইকেটে মন্টি পানেসার যেভাবে `সর্দারগিরি` দেখিয়ে ছিলেন, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ভাজ্জি- অশ্বিন-ওঝাদের ভূত গলা টিপে ছাড়বে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের। প্রথম দিন যে পিচটা দেখে মনে হচ্ছিল স্পিনাররা ম্যাচের ভবিষ্যত তিন দিনেই লিখে ফেলবেন, সেই গোলকধাঁধার পিচে কুক-পিটারসেন হঠাত্‍ `বিদ্রোহ` করে বসলেন। ঘূর্ণি পিচে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝে কুক-পিটারসেনরা লড়াই করছেন। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১১০ রান যোগ করে ভারতকে ভয় দেখাতে শুরু করছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।

৩২৭ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর ধোনিদের লক্ষ্য ছিল কুকদের ভাগ্যলিখন দ্বিতীয় দিনেই লিখে ফেলতে। আর এমন ভাবনা আসবে নাই বা কেন। প্রথম দিনের পিচে সচিন, সেওয়াগদের মত ব্যাটসম্যানরাও ঘূর্ণি পিচে চোখে সরষেফুল দেখেছিলেন। তার ওপর আবার ধোনির অস্ত্রাগারে তিন ধরনের স্পিনার। কিন্তু দিনের শেষে স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে ভারতের চেয়ে মাত্র ১৪৯ রানে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। কুকদের হাতে এখনও আট উইকেট। তার চেয়েও খারাপ খবর এমন দুজন ক্রিজে আছেন যারা ইংল্যান্ডের সেরা দুই তুরুপের তাস। ওয়াংখেড়ের পিচে ৮৭ রানে অপরাজিত মোতেরার মহানায়ক কুক, আর ৬২ রানে অপরাজিত পিটারসেন। খারাপ খবরের আরও একটা দিক ভারতের দুই অফ স্পিনারের কেউই মানে হরভজন- অশ্বিন এমন একটা লোভ ধরানো পিচে কোনও উইকেট পেলেন না। ৩৬ ওভার বল করে ভাজ্জি-অশ্বিনের উইকেট সারিতে শূণ্যই লেখা থাকল। পেলে হয়তো ওঝার স্পেলটা আরও একটু সম্মান পেত। প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট পাওয়া ওঝা ওয়াংখেড়েতে টার্ন- বাউন্স পাচ্ছেন, দুটো উইকেটেও পেলেন। কম্পটনের পর ট্রটকে ফিরিয়ে দিয়ে পালের হাওয়া টেনেও আনলেন ওঝা। তবে অন্যদিকে একটু সাহায্য পেলে হয়তো আরও একটু বিপদজনক হতে পারতেন। ব্যাপার যাই হোক দিনের শেষে ওয়াংখেড়েতে ধোনির বিপদঘন্টা শুনতে পাওয়ার কথা। তৃতীয় দিনের প্রথম দেড় ঘন্টার মধ্যে যদি অন্তত খান তিনেক উইকেট তোলা না যায়, কে বলতে পারে কসাভের মত ধোনিদের নিশব্দে ললাটলিখনে লেখা হয়ে যাবে না! অবশ্য আরবসাগরের তীরে কদিন ধরে যা ঘটছে তাতে সব কিছু আগে থেকে আঁচ করা যাচ্ছে না। এটাই এখন ধোনির সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

এর আগে ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩২৭ রানে। পুজারা ১৩৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে সোয়ানের বলে স্টাম্প আউট হন। ভারতীয় টেল এন্ডারদের মধ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন হরভজন সিং। তিনি ভারতীয় স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন অতি মূল্যবান ২১ রান। পানেসার নেন ১২৯ রান দিয়ে নেন পাঁচ উইকেট, সোয়ান চার উইকেট তুলে নেন ৭০ রান দিয়ে। গতকাল ভারতের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ২৬৬।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।